

ভারতের স্বাধীনতা লাভের অব্যবহতি পরেই আখরীগঞ্জ এলাকার কিছু শিক্ষাদরদী এবং প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব এই এলাকায় একটি মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। এই ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন মোঃ আলতাফ হোসেন। অন্য সহযোগীরা ছিলেন পন্ডিত খোদাবক্স, মৌলবী ফরমান আলী, চিকিৎসক অমল কুমার সরকার প্রমুখ। ১৯৪৮ সালের ২৮ এপ্রিল আলতাফ হোসেনের আহবানে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর ১৯৫২ সালে স্কুল আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপিত হয়। স্কুল যেখানে প্রথম স্থাপিত হয়েছিল সেখানে একটি মসজিদ ছিল। মসজিদ অন্যত্র সরিয়ে সেই জায়গায় স্কুল স্থাপিত হয়। ১৯৫৪ সালে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদন লাভ করে, ১৯৬০ সালে অষ্টম শ্রেণীর অনুমোদন পায় এবং ১৯৬৩ তে মাধ্যমিক। এরপর ২০১০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে উন্নীত হয়। এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন মহম্মদ আলতাফ হোসেন। তিনি আক্ষরিক অর্থেই এলাকাবাসীদের দরজায় দরজায় ঘুরে জোগাড় করেছিলেন বিদ্যালয় গড়ে তুলবার জন্য অর্থ এমনকি সামগ্রীও। তাঁর সেই সংগ্রহেই গড়ে ওঠে তিনতলা বিদ্যালয় ভবন। ১৯৮০ সালে এই জেলার তিনতলা বিদ্যালয় ভবন হিসেবে যা ছিল জেলায় দ্বিতীয়। আলতাফ হোসেন আমৃত্যু বিদ্যালয়ের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁকে যোগ্যতম সহায়তা প্রদান করেন তৎকালীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীমউদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। সম্পাদক এবং প্রধান শিক্ষকের যুগলবন্দিতে এবং এলাকার মানুষের সহায়তায় এলাকার শিক্ষা মানচিত্রে শিক্ষার অগ্রগতিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে আখরীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৯ সালের ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মাগর্ভে তলিয়ে যায় আখরীগঞ্জ হাইস্কুল। পরবর্তীতে হাসানপুর গ্রামে সাময়িকভাবে সরে আসে। সেই ভিটেও পদ্মাগর্ভে তলিয়ে যায়। শিবনগর গ্রামে স্কুল সরে আসে ১৯৯২ সালে। স্কুল ভেঙে যাওয়া এলাকাবাসীর কাছে ছিল গভীর শোকাবহ ঘটনা। ভাঙনে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা কমলেও ধীরে ধীরে বিদ্যালয় তার হৃত মর্যাদা ফিরে পেয়েছে।