History

1947 সালে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা লাভের পর বাংলা দ্বিখন্ডিত হলে ওপার বাংলা থেকে বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে এপার বাংলায় চলে আসে। আমাদের বিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থান এই উদ্বাস্তুদের নিয়েই।প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় হাজার হাজার উদ্বাস্তু পরিবার বসবাস শুরু করে রাজারহাট এলাকার চারিদিকে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এলাকাতে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে কোন বিদ্যালয় ছিল না। 1958 সালে এইএলাকায় স্বনাম ধন্য শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব স্বর্গীয় নিবারণ চন্দ্র দত্ত মহাশয় সহ আরও কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এলাকাতে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা শুরু করেন এবং গ্রামের মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্বর্গীয় নবদ্বীপ সাহার নিকট থেকে বিদ্যালয়ের জন্য জমি ক্রয় করে একটি একচালা টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়টির গোড়াপত্তন করেন।

প্রথম শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন মাননীয় শ্রী অজয় দে সরকার মহাশয়। প্রতি বছরই শ্রেণী বাড়তে থাকে কিন্তু শ্রেণীকক্ষের অভাব। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির সরকারি অর্থানুকূল্যে নতুন কক্ষ নির্মান হলে অতিরিক্ত পরিত্যক্ত কক্ষগুলি উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হয়.। 1968সালে সমরেন্দ্র বিষ্ণু মহাশয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি সরকারি অনুমোদনের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সচল থাকলেও জেনারেল ফান্ডের নির্দিষ্ট টাকা গচ্ছিত না থাকায় এবং আনুসঙ্গিক কিছু ত্রুটির ফলে অনুমোদন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই পরিচালন সমিতির সদস্য ছিলেন নিবারণ চন্দ্র দত্ত, নিখিল রঞ্জন দাস, কামিনী প্রসাদ রায়, নবীন চন্দ্র সাহা, মনীন্দ্র চন্দ্র ভৌমিক, উপেন্দ্র প্রসাদ কার্যী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। 1968 সালে স্বর্গীয় অমিয় ভূষণ ঘোষ মহাশয় পরিচালন সমিতিতে যোগদান করলে বিদ্যালয়টি আরও গতিময় হয়ে ওঠে.। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোচবিহারের বিশিষ্ট আইনজীবি স্বর্গীয় অরুন কুমার ভট্টাচার্য মহাশয় বিদ্যালয়ের নতুন গৃহ নির্মানের জন্য প্রয়জনীয় কাঠ দান করে অনন্য নজির রেখে গেছেন। 1968 সালে নব উদ্যোগে বিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য পুনরায় আবেদন করা হয় এবং তৎকালীন বিধায়ক স্বর্গীয় বিমল কান্তি বসুর সার্বিক সহযোগিতায় 01/01/1969 তারিখে বিদ্যালয়টি সরকারি অনুমোদন লাভ করে পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত জুনিয়র হাই স্কুল হিসাবে।

নানাবিধ সংকটের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকা বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার প্রচেষ্টা শুরু হয় তৎকালীন প্রধান শিক্ষক শ্রী পূর্ণ চন্দ্র পন্ডিত মহাশয়ের নেতৃত্বে। তৎকালীন বিধায়ক সুনীল কুমার কর মহাশয়ের সার্বিক সহযোগিতায় 01/01/1973 তারিখে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়।

অনেক চড়াই-উৎরাই এর মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়টি আজও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী পরিচালন সমিতি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও অবিভাবক মন্ডলীর নিরলস প্রচেষ্টায় 2002 সালে বিদ্যালয়টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে উন্নীত হয়ে আজও স্ব-মহীমায় বিদ্যমান।