
স্বাধীনতা উত্তর পর্বে স্থানীয় মানুষজন তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর প্রয়োজন পূরণের জন্য এই এলাকায় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন । কারণ সেই সময়ে আত্রেয়ী নদীর পশ্চিম পাড়ে কুমারগঞ্জ-এ রয়েছে একটি মাত্র বিদ্যালয়। গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাট এর প্রতিকূলতা ভয়াল আত্রেয়ী নদী পেরিয়ে কুমারগঞ্জ বিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখতে পাঠানো ছিল খুবই দুরূহ ব্যাপার। তাই স্থানীয় কিছু বিশিষ্ট সমাজসেবীগণ যথা স্বর্গীয় বীরেশ চন্দ্র চৌধুরী, সুধীর মন্ডল, কালী সাহা প্রমুখের চেষ্টায় জন্তীহার খাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্বর্গীয়া চপলা রানী চৌধুরীর জমিতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন স্বর্গীয় বীরেশ চন্দ্র চৌধুরী এবং প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্বর্গীয় শিবেন্দ্র তলাপাত্র অন্যান্য শিক্ষক মহাশয়গণ ছিলেন স্বর্গীয় নীলমণি সান্যাল, সতীশ চন্দ্র দাস, বরুন হাজরা, নন্দ দুলাল সাহা প্রমূখ।
বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত হয়। তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্বর্গীয় কমলেশ চন্দ্র সরকার অন্যান্য শিক্ষক হিসেবে ছিলেন শংকর চন্দ্র হালদার, নীলমণি সান্যাল, সত্যব্রত মজুমদার ও অমল কুমার সরকার প্রমুখ , শিক্ষা কর্মী ছিলেন বীরেন্দ্রনাথ হালদার ও দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ। ১৯৭০ সালে গোপালগঞ্জ রঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। কথিত আছে স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় তৎকালীন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক জনৈক রঘুনাথ বাবুর নাম অনুসারে বিদ্যালয়ের নাম গোপালগঞ্জ রঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়।
১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন শ্রী মণীশ চাকলাদার মহাশয় তার পরিশ্রম সহকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং এলাকার মানুষজন ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। ২০০০ সালে বিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। এর সঙ্গেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বীকৃতিও পায়। ফলে এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের দূরবর্তী পতিরাম বালুরঘাটে পরীক্ষা দেওয়ার বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি ঘটে। সাধারণ পাঠক্রম এর পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শাখা চালু হয়। বিদ্যালযয়ে একটি ছাত্রাবাস এর ব্যবস্থা থাকায় দূরবর্তী এলাকার দুস্থ ছাত্রদের বিশেষ সুবিধা হয়। দিন দিন মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যালয়ের ফলাফল ব্লক ও জেলার মধ্যে সুনাম অর্জন করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, আলোচনা প্রভৃতি ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের মুকুটে নতুন পালক হিসেবে NCC অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সবদিক থেকেই বর্তমানে গোপালগঞ্জ রঘুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ব্লক তথা জেলার মধ্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করেছে।