History

মুর্শিদাবাদ জেলার সুপ্রাচীন বিদ্যালয় গুলির মধ্যে চক ইসলামপুর শ্রীকৃষ্ণ চম্পালাল মাহেশরী উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম। ডোমকল মহকুমার মধ্যে এটি প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার তথ্যপ্রমান ইতিহাসিদ্ধ (Central report on Public Instruction in Bengali for 1878-79/ Calcutta, Printed at Secretorial Press, 1879, page no. 48) । ঊনবিংশ শতাব্দীতে গোয়াস বারবাকাবাদ সরকারের বৃহত্তম পরগনা। মুন্সেফী আদালত, থানা, ডাকঘর, রেজিস্ট্রি অফিস এবং সর্বোপরি আ্যঙ্গলো ভার্নাকুলার বিদ্যালয় ছিল। ১৮৬৯ সালের দুর্ভিক্ষ, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, ইত্যাদির কারণে ১৮৭৬ সালে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। ইসলামের জমিদার গোপীমোহন মজুমদারের পরিবারের সন্তানেরা গোয়াসে গিয়ে আ্যঙ্গলো ভার্নাকুলার স্কুলে পড়াশুনো করতেন। তিনি নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুভব করলেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি উদ্যোগী হতে পারেননি। ইতিমধ্যে তাঁর বড়ছেলে হরিকৃষ্ণ মজুমদার জমিদারি এস্টেটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর পিতার স্বপ্ন অনুযায়ী ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বর্তমান ইসলামপুর বহরমপুর চীন সড়কের সংযোগস্থল এলাকায় বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তৎকালীন সময়ে এই এলাকাটি "উৎসবখালী" বলে পরিচিত ছিলো কারণ এখানে একটা সঙ্কীর্ণ জলাশয় (খাল) ছিল। এই খালের পাশে একটি বাগান ছিল যার নাম তার নাম ছিল দু'আনির বাগান। অনুমান করা যায় বর্তমান ব্যাংক অফ বরোদার সম্মুখীন অঞ্চল থেকে ডোমকল সড়ক পথে পর্যন্ত আবার চক গ্রামে প্রবেশ করার রাস্তা থেকে বর্তমান বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে এই বাগান ছিল। সেই প্রতিষ্ঠার পর থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে এই বিদ্যালয় বর্তমান।

 

বিদ্যালয়ের প্রথম পরিচালন সমিতির সম্পাদক হন প্রতিষ্ঠাতা শ্রী হরিকৃষ্ণ মজুমদার। শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায়, বিনোদিলাল গুপ্ত, মুকুন্দলাল বিশ্বাস , ভুবনমোহন ঠাকুর, প্রানগোপাল ঠাকুর এবং বটকৃষ্ণ সদস্য ছিলেন। ভুবন মোহন চৌধুরী ছিলেন প্রথম প্রধান শিক্ষক। দ্বিতীয় শিক্ষকের পদে ছিলেন শেখ কূতবুদ্দিন।

 

দু বছর সুনামের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে ১৮৮০ সালে ৮ জন ছাত্র মিডল স্কলারশিপ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। শশীভূষণ ঘোষ মহাশয় ওই পরীক্ষায় জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন (Result of the middle English Scholarship Examination, Calcutta and Presidency Division, 1980/ Report of the Director of Public Instruction 1881-1882 : page no. 31) ।

এই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম পাস করেন রাধাকৃষ্ণ ঠাকুর (The Calcutta Gazette , feb 06 1884/ page no. 294)।

 

১৯১৪ সালে অগ্নিকান্ডে দু'আনার বাগানের বিদ্যালয় টি ভস্মিভূত হয়ে যায়। তখন সমস্ত বিদ্যালয় টি খড়ের ছাউনি দ্বারা নির্মিত ছিল। পরে বিদ্যালয় স্থানান্তরিত হয় ইসলামপুর হাট এলাকায়।

 

পরবর্তীকালে জমিদার প্রবরকৃষ্ণ মজুমদারের উৎসাহে বর্তমান পোস্টঅফিসের সামনে পাকা বিল্ডিং তৈরি হয়( বর্তমানে বিল্ডিংটি ইসলামপুর গার্লস স্কুল নামে পরিচিত)। তৎকালীন বিদ্যালয় পরিদর্শক এফ. রহমানের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় (২৯.৮.১৯২৯) বিদ্যালয়ে ৮টি ক্লাসরুম আছে আর অফিসঘর আছে।

 

স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৫৯-৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতি বিধানার্থে গৃহনির্মানে অর্থপ্রদান করে। এই বিদ্যালয় অর্থসাহায্য পেলেও করার জায়গা ছিলো না। বর্তমানে ডোমকল যাওয়ার পথে সড়কের পাশে চক ইসলামপুর রেসমশিল্পীদের চাঁদার টাকায় ১৯৬১ সালে ৮৮ শতক জমি কেনা ছিল। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রাধাকৃষ্ণ বাগচীর অনুরোধে ২০.৯.৬১ সালে ট্রাস্টিগণ বিদ্যালয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। নতুন জায়গায় নতুনভাবে বিদ্যালয় নির্মাণের মতো টাকা না থাকায় সেই সময় ইসলামপুরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দুর্গপ্রসাদ মাহেশ্বরী এবং শিবপ্রসাদ মাহেশ্বরীর কাছে দ্বারস্থ হন। তারা ৩০ হাজার টাকা অনুদান দিতে রাজি হন শর্তসাপেক্ষে। শর্ত হলো, বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ওনাদের পিতৃদেবের নামে নামকরণ করতে হবে। তৎকালীন কমিটি রাজি হন এবং বোর্ডের কাছে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠান। ১৪.০৬.১৯৬৮ সালে 8012/G/022-1421105 বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ইসলামপুর হাই স্কুল থেকে চক ইসলামপুর শ্রীকৃষ্ণ চম্পালাল মাহেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়, যা আজ ও বর্তমান।

 

১৯৩৭ সালে এই বিদ্যালযের ৬০ বছর পূর্তিতে কাজী নজরুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবীর, যোগিবর বরোদাচরণ মিত্র যোগদান করেন। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি অনুষ্ঠানের শুভ কামনা করে একটি পত্র পাঠান।