History

নিমিচি রামনারায়ণ বিদ্যালয়ের কথা সম্মুখে টাকী-মালঞ্চ প্রশস্ত পথ, পশ্চাতে সবুজে ঘেরা প্রান্তর, মধ্যে অশ্বথ আর কৃষ্ণচুড়া পরিবেষ্টিত পুক্করিণী, সবার উপরে বাধাহীন মুক্ত আকাশ - এরই মাঝে বিকশিত অর্ধশতাব্দীরও অধিক প্রাচীন বিদ্যামন্দির, নিমিচি রমনারায়ণ বিদ্যালয় । ১৯৪৮ সালের ২৪শে জানুয়ারী, স্বর্গীয় শ্রী রামনারায়ণ রায় মহাশয়ের হাত ধরে যে শিক্ষা মন্দিরটি তার পথ চলা শুরু করেছিল, আজ তা পরিপূর্ণতায় পল্লবিত । হাজারো সবুজ প্রাণের আনাগোনায় উজ্জ্বল, উদ্ভসিত । গুটি কতক ছাত্র-ছাত্রী, খড় দেওয়া চালা ঘর, হাতে গোনা শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী আর কিছু অগ্রনী মানুষের সহদয়-সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পথ চলা শুরু । তারপর কেটে গেছে ঝঞ্ঝ-বিক্ষুব্ধ বহুকাল । সময়ের হাত ধরে পরিবর্তন এসেছে এ বিদ্যামন্দিরে, হয়েছে পল্লবিত ও বিকশিত । হাতে গোনা ছাত্র-ছাত্রী আজ অসংখ্য শিক্ষার্থীর মহামিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে । প্রায় দু-হাজারের মতো ছাত্র-ছাত্রী, ৩০ জন দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা, চার জন পার্শ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও চার জন শিক্ষাকর্মী আর হাজারো অভিভাবকের মেলবন্ধনে এ বিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে এতদ্‌ অঞ্চলের মানুষের গর্বের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে । নিমিচি, চাপালী, চৈতল ও পার্শবর্তী অন্যান্য অঞ্চল থেকে সমস্ত বর্ণের, ধর্মের ছেলেমেয়েরা এখানে বিদ্যাচর্চা করতে আসে । আমাদের এই বিদ্যালয় একদিকে যেমন বৈচিত্র্যের মধ্যে এঁক্য স্থাপন করতে পেরেছে, তেমনি একটি বিরাট সংখ্যক পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্যে বিদ্যার দীপশিখা প্রজ্জ্বলিত করতে পেরেছে । উদ্যমী ছাত্র-ছাত্রী, পরিশ্রমী শিক্ষকমন্ডলী আর সচেতন অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ফল বেশ আশাব্যঞ্জক । এখানকার ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে লব্ধ প্রতিষ্ঠ । অনেকে প্রতিষ্ঠিত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুযোগ পেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে । এখানে সাধারণ পড়াশুনার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শাখারও প্রবর্তন করা হয়েছে । সময়ের দাবি মাথায় রেখে, ভবিষ্যত জীবন জীবিকার কথা স্মরণে রেখে প্যারামেডিকেল, মোবাইল রিপেয়ারিং, টেলারিং, অটোমোবাইল, এগ্রিকালচার, হেলথ্‌ কেয়ার প্রভৃতি শাখার প্রচলন করা হয়েছে । এই সমস্ত শাখায় অষ্টম ও দশম মানের ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হবার সুযোগ পাচ্ছে এবং দ্রুত এই বৃত্তিমূলক বিভাগ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট আকর্ষণীয় ও গ্রহণীয় হয়ে উঠছে । বিগত কয়েক বছর এই বিভাগের ফলাফলও বেশ আশাব্যঞ্জক । বিদ্যালয়ে আছে বিজ্ঞান বিষয়ক ল্যাব, ছাত্র-ছাত্রীদের কমন রুম । একটি গ্রন্থাগার ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে চালু করা হয়েছে । যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের উপযোগী প্রচুর পুস্তক আছে । এর সঙ্গে যুক্ত আছে মিড-ডে মিল । পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতস্ফুর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করছে । অবশ্যই এর সঙ্গে সহায়ক হিসাবে আছে শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালন সমিতি ও অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দ আর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা বৃন্দ । আমাদের এই এতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক চর্চা উল্লেখ করার মতো । প্রতি বছর ২৩শে জানুয়ারী, ২৪শে জানুয়ারী বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস, ২৬শে জানুয়ারী, ১৫ই আগষ্ট, ২৫শে বৈশাখ, ২২শে শ্রাবণ প্রভৃতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় । এবং সেখানে নৃত্য, গান,আবৃত্তি নাটক ইত্যাদিতে ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে থাকে । এছাড়াও ইত্যাদি খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকে । বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিনের পত্রিকা “কাকলির" পাশাপাশি সব মিলিয়ে আমাদের এই বিদ্যালয় প্রকৃতির কোলে লালিত, প্রকৃতির সঙ্গে অস্বিত এক আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে উঠেছে । এতদ সত্বেও এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে গেছে । আশা করা যায় সরকারী আনুকূল্য, অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সক্রিয় সহযোগিতা, শিক্ষক শিক্ষিকাদের দিক নির্দেশনা আর ছাত্র-ছাত্রীদের পরিশ্রমের মাধ্যমে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে এই বিদ্যালয়কে আমরা সমৃদ্ধি ও সুনামের শীর্ষস্থানে উন্নীত করতে পারবো । সকলের সহযোগিতার হাত আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোক ।