History

অনন্ত ভাবময় অবতার বরিষ্ঠ শ্রীরামকৃষ্ণ। এই পরমপুরুষের ভাবধারার আলোকচ্ছটায় আকৃষ্ট ডহরকুন্ডু নিবাসী কিছু মানুষ জয়রামবাটিতে শ্রী শ্রী মা সারদার নিকট যাতায়াত করতেন । তা৺দের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট মা সারদা নিজ হাতে শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রতিকৃতি দান করে ডহরকুন্ডু গ্রামে ঠাকুরের নামে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিলেন। তারই ফলস্বরূপ ১৯১৪ সালে " ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম " প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থাপিত হল কামার পুকুরের বাইরে হুগলি জেলার প্রথম শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রম । পূজা আর নিরক্ষরতা দূরীকরণ ছিল প্রাথমিক কার্যক্রম ।  

স্বাধীনোত্তর সময়ে গ্রামবাসী গণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ১৯৫৪ সালে ডহরকুন্ডু আশ্রম প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। মঠের ই জায়গায়। পরবর্তী এক দশকের মধ্যে ডহরকুন্ডু গ্রামে শিক্ষার হারের অগ্রগতির ফলে ১৯৬৩ - ৬৪ সাল নাগাদ শিক্ষিত যুবক সম্প্রদায় লাইব্রেরী , বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ,নৈশবিদ্যালয় ইত্যাদি গঠিত হয় ।

১৯৬৭ সালে ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ট্রাস্টীর অনুমতিক্রমে শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে শিক্ষানুরাগী পূণ্যাত্মা ডা়: মানিক চন্দ্র মন্ডল মহাশয় , শ্রীযুক্ত বঙ্কিমচন্দ্র ঘোড়ুই মহাশয় ডহরকুন্ডু গ্রামবাসীগণের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্রামে জুনিয়র হাইস্কুল স্থাপনের জন্য মহতী সভায় একত্রিত করার এবং চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাবস্থা করেন । সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীরা সর্বসম্মতিক্রমে জুনিয়র হাইস্কুল স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ জুনিয়র হাইস্কুলের পরিচালন কমিটির সভায় গ্রামবাসীগণের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করে ২ class V- VI আশ্রম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্ডলীর সহযোগিতায় ৪ঠা জানুয়ারী ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে নতুন বিদ্যালয় শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন । ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ট্রাস্টী বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করলেন। বঙ্কিমচন্দ্র ঘোড়ুই মহাশয় ও রাধানাথ পা৺জা প্রমুখ বহু মানুষ ই নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেন। তা৺দের কোন কৃতজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়। 

শিক্ষিত যুবকদের নিয়ে শিক্ষানুরাগী পূণ্যাত্মা ডা়: মানিক চন্দ্র মন্ডল মহাশয় , শ্রীযুক্ত বঙ্কিমচন্দ্র ঘোড়ুই মহাশয় এবং পশ্চিম বঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বরেণ্য ৺প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মহাশয়ের অনুপ্রেরণায় ১৯৬৮ সালে ৪ টা জানুয়ারী "ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ জুনিয়র হাইস্কুল " প্রতিষ্ঠা হয়। শ্রীযুক্ত অদৃষ্ট কুমার মন্ডল, প্রধান শিক্ষক এবং শ্রীযুক্ত প্রভাত সমীর পা৺জা ও শ্রীযুক্ত নিমাই চন্দ্র চৌধুরী সহশিক্ষক রূপে নিযুক্ত হলেন।ঐ দিন থেকেই যাত্রা শুরু হল বিদ্যালয়ের।

জুনিয়র হাইস্কুলের ইতিকথা :--

প্রথম থেকেই বিদ্যালয় ২ ক্লাস V-VI জুনিয়র হাইস্কুল হিসাবে তার যাত্রা শুরু করেছে। ডহরকুন্ডু আশ্রম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় - চতুর্থ শ্রেণীর ক্লাসরুমে এই জুনিয়র হাইস্কুলের পঠনপাঠন শুরু হয়। তখনকার দিনে ডা: মানিক  চন্দ্র  মন্ডল  নিজের স্ত্রীর গহনা বন্ধক দিয়ে ৫০০ টাকা বিদ্যালয়ের Reserve Fund এর অর্থ হিসাবে শ্রী বঙ্কিমচন্দ্র ঘোড়ুইয়ের হাতে তুলে দিলেন হুগলী DI(SE/S) office এ জমা দেওয়ার জন্য। ১৯৬৯ সালে হুগলী DI(SE/S) office থেকে জুনিয়র হাইস্কুলের মঞ্জুরির চিঠি এসেগেল। প্রয়াত মূখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মহাশয় বিদ্যালয়ের জন্য পুরোনো চরকাকেন্দ্রের করোগেটের টিন দান করলেন বিদ্যালয়ের ছাউনির জন্য।  এরপর ১৯৬৯ সালে 4 Class V - VIII খোলার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। এই অনুমোদন স্বীকৃতি পায় ১৯৭০ সালে। 

১৯৭১ সালে শ্রীযুক্ত অর্জুন ভৌমিক,শ্রীযুক্ত লক্ষীনারায়ণ ভৌমিক, শ্রীমতি তুলসীবালা ভৌমিক ও পূন্যবালা ভৌমিক মহাশয়/মহাশয়ারা নামমাত্র  মূল্য তাদের  জমি  দান  করলেন   বিদ্যালয়ের গৃহ নির্মাাণের জন্য।  

জুনিয়র হাইস্কুল থেকে হাইস্কুলে উত্তরণ : --

Managing Committee এবং গ্রামবাসী গণের উদ্যোগে ১৯৭১ এ Class IX এবং ১৯৭২ সালে Class X খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বেশকিছু বছর অন্য বিদ্যালয় থেকে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৭ সালে বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত হাইস্কুল গুলিকে Special Permission দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৮০ সালের WBBSE এই বিদ্যালয়ের Special Permission withdraw করে নেন। ফলে প্রস্তাবিত হাইস্কুল পুনরায় জুনিয়র হাইস্কুলে পরিনত হয়। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাল ছাড়েননি।

অবশেষে ১৯৮৬ /৮৭ সালে বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। অর্থাৎ ডহরকুন্ডু শ্রীরামকৃষ্ণ জুনিয়র হাইস্কুল রূপান্তরিত হয় হাইস্কুলে।

২০০৪ সালেই ডা: ভবানী মন্ডল মহাশয়ের সহধর্মিণী 'কল্পনা মন্ডল' নামে ট্রাষ্ট থেকে কিছু দান সংগ্রহ করে একটা দূরবীন যন্ত্র কিনেছেন। সুদূর কলকাতা বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ড: দেবীপ্রসাদ দুয়ারী ও বিজ্ঞানী অমলেন্দু বন্ধ্যপাধ্যায় , আলিপুর অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের বিজ্ঞানী ডা: বিপাশ দাশগুপ্ত মহাশয় ও অন্যান্য বিশেষঞ্জদের নিয়ে "রাণী রাসমণি আকাশ পর্যবেক্ষন কেন্দ্র" স্থাপিত হয় বিদ্যালয়ে। সেই সময়  রাতের আকাশ  দর্শন করে  বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা  ও গ্রামবাসী রা  খুুবই  আপ্লুুত হতেন ।২০০৫ সালে বিদ্যালয়ে তৈরী হয় "রাণী রাসমণি মঞ্চ" । 

২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে। ডা: বিজন বিহারী ভৌমিক মহাশয় সুদূর দিল্লির "পার্বতী ট্রাস্ট " সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কম্পিউটার আনা হয়েছে।

আজও সকলের উপদেশ ও সর্বপ্রকার সহযোগিতায় এবং ঐকান্তিক শুভেচ্ছায় বিদ্যালয় সর্বাঙ্গীন উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।