
বিদ্যালয় পরিচিতি
উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বঙ্গদেশে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের যে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল সেই সময়ে এই বিদ্যালয়েরও সূচনা হয়। ১৯৪৪ সালের আগে দলুইগাছা পশ্চিমপাড়া আর দৌলতপুরের জনা কয়েক উৎসাহী মানুষের চেষ্টায় দৌলতপুরের বামুনদের বৈঠকখানায় (সুরথ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের) পাঠশালা বসত। পরবর্তীকালে সেই পাঠশালা কালী মাজির(ডা: কালীচরণ মাজি) দলুইগাছার ডাক্তার খানাতে বসত।
১৯৪৪ সালে উত্তরপাড়ার ধীরেন মুখার্জী মহাশয় (হুগলী ট্রাষ্টের ডিরেক্টর) কালী মাজি,নিতাইচরণ পদ্ম,যতীন্দ্রনাথ ঘোষ, সুরথচন্দ্র চক্রবর্ত্তী,গঙ্গাধর কোলে এই রকম কিছু মানুষের সঙ্গে এক বৈঠকে পাঠশালার বিষয়ে শুনে গেলেন। সেই সময় অখন্ড কলকাতাতে ছিল 'বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি কাউন্সিল অব উইমেন্' নামে এক মহিলা সমিতি। সেই সমিতির সেক্রেটারী ছিলেন ধীরেন বাবুর স্ত্রী শ্রীমতী নীলিমা মুখার্জী। ধীরেনবাবু একবার শুনেছিলেন ঐ মহিলা সমিতির গ্রামের দিকে কোনো স্কুল করার ইচ্ছা। তাই তিনি নীলিমা দেবীকে বিষয়টি বললেন। একদিন কালীবাবু বৌদি নীলিমা দেবীকে নিয়ে হাজির দলুইগাছায়। তিনি নিজের চোখে জায়গা দেখলেন, আলোচনা করলেন নিতাইবাবু, সুরথবাবু,যতীনবাবুদের সঙ্গে। এরপর গ্রামের লোক, মহিলা সমিতি প্রত্যেকেই সাহায্য করলেন।সকলের চেষ্টায় গড়ে উঠল মাটির ঘর।
১৯৪৪ সালের ৬ই নভেম্বর মহিলা সমিতির সেই সময়ের চেয়ারম্যান মিসেস কে.সি. নতুন স্কুল ঘরের (শিবমন্দিরের উত্তর দিক টালির ছাউনি মাটির ঘর) দ্বারউদঘাটন করলেন। পাঠশালা হল চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম হল দৌলতপুর দলুইগাছা ভারতী বিদ্যালয়। শিক্ষক মহাশয় ছিলেন এনায়েতপুরের অধীর চন্দ্র পাল।
স্বাধীনতার পর ০১/০৩/১৯৪৮ সালে ডি. ডি. ভারতী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধিনস্ত হয়।
২০০৪ সালে বিদ্যালয়টির গৃহ নির্মাণের জন্য অর্থপ্রাপ্তি হয়। যার ফলে ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টিতে দুটি পাকা গৃহ নির্মিত হয়।
২০১৮ সালে বিদ্যালয়টিতে অর্থপ্রাপ্তি হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩টি পাকা গৃহ বর্তমান আছে।
এছাড়াও আমাদের ডি. ডি. ভারতী প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে নলকূপ ও একটি রান্নাঘর বর্তমান আছে।