
কালীঘাট মহাকালী পাঠশালার ইতিহাস
কালীঘাট মহাকালী পাঠশালা ২০০৭ সালে ফেব্রুয়ারি-তে তার শতবর্ষ পূর্ণ করল। যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯০৭সালে। স্থানীয় সদজন স্বর্গীয় শৈলেন্দ্র নাথ হালদার মহোদয় তাঁহার পিতা স্বর্গীয় মহিমা নাথ হালদার মহাশয়ের স্মৃতি তর্পণ করলেন – মহিম হালদার স্ট্রিটের ওপর একখন্ড জমি দান করে। এই বিদ্যায়তনটির গড়ে ওঠার ভূমি হলো। স্থানীয় সহৃদয় অনেক ব্যাক্তিই তখন এগিয়ে এলেন – অর্থ ও সামর্থ্য দুইই নিয়ে। এঁদের মধ্যে আছেন সর্ব – স্বর্গত গুরুপদ হালদার,রায় বাহাদুর কালিকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, কে. সি. ব্যানার্জী, ধন্দেওদাস রামেশ্বর, লক্ষীনারায়ণ শরফ, হরিরাম গোয়েঙ্কা এবং স্থানীয় আরকিছু বিদ্যোৎসাহী ভদ্রজন – যাঁদের নাম উল্লেখ না করলে এই বিদ্যায়তনটির জন্ম ইতিহাস অসম্পূর্ণ থাকবে।
এই প্রসঙ্গে এই সৃষ্টির মূল ভবনটির কথা বলতে হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ পাদে ইংরেজ রাজত্ব তখন মধ্য গগনে আমাদের শিক্ষা জীবনে সমাজ জীবনে ভাবধারা, পরিবর্তনের মুখে রেঁনেশার ফলশ্রুতি। বেদের চতুরাস্রমের গুরুগৃহে অধ্যয়ন তখন স্মৃতিতে পর্যবেশিত। গার্গী মৈত্রেয়ী কাত্যায়নী খনা – ইতিহাস। নারীরা অন্তঃপুরে অন্তরীণ। পুরুষ শাসিত সমাজ তাদের শিক্ষার অধিকার, আলোর অধিকার হরণ করেছে। সে সময় অনেক মনীষীই যেমন বিদ্যাসাগর, রামমোহন, ভূদেব মুখোপাধ্যায় প্রমুখ কয়েকজন এগিয়ে এসেছেন নারীকে তাঁদের আপন অধিকারে ফিরিয়ে দিতে।
মহারাস্ট্রিয় মাতাজী গঙ্গাঁবাই ভবানী মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্য আর এক আলোক নারীর শিক্ষার কথা চিন্তা করলেন। সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু হল মাতাজী গঙ্গাঁবাই তারই মধ্যে নারীর জন্য বিশেষ ভাবনার স্থান দিলেন। তাঁর ভাবনায় নারী মূলতঃ 'মা' সংসারের রক্ষয়এী সন্তানের চরিত্র গঠনের মূল কারণ মানুষ সৃষ্টির প্রধান উপকরণ। তাই তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মূল ধারার সঙ্গে সংযোগ রেখেই বৈশিষ্ট্য আনতে হবে। তার সাধনাদীপ্ত মনে নারীর প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হল- আপন চরিত্রের মহিমা ও দৃঢ়তা দ্বারা সর্ব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়া ও লক্ষে পোঁছানো। এই ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি কলকাতায় পৌঁছালেন বিশেষ ভাবনার বৈশিষ্ট্য নিয়ে মেয়েদের জন্য কয়েকটা বিদ্যায়তন গড়ে তুলতে। তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা কেশব সেন স্ট্রীটে 'মহাকালী পাঠশালা' নাম দিয়ে মেয়েদের জন্য একটি বিদ্যায়তন গড়া।
একই প্রেরণা ও ভাবধারা নিয়ে আমাদের 'কালীঘাট মহাকালী পাঠশালার' জন্ম হল। আগেই বলেছি জন্মলগ্ন ১৯০৭সাল। সূতো ‘’ভব র্ঋতং চর'' এই পবিত্র মন্ত্র দিয়ে যাত্রা হল শুরু।