
চন্দনপুর বীরেন্দ্র শিক্ষা সদন (উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় )এতদঞ্চলে গৌরবময় ঐতিহ্যমণ্ডিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। “ যে কোনো দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয় একটিমাত্র পদক্ষেপ দিয়ে”- এই ধ্রুবসত্য মনে রেখে স্বাধীনত্তর ভারতবর্ষে অজ্ঞানতার অন্ধকার এ নিমজ্জিত সমাজ জীবনে শিক্ষ্যার অলকবর্তিকা প্রজ্জলনের মানসে এলাকার বিদ্যোত্সাহী বিশিষ্ট ব্যক্তিগনের প্রচেষ্টায় ও গ্রামবাসীগণের ওইকান্তিক সাহায্যে ও সহযোগিতায় চির উন্নত শির “দেশপ্রাণ” বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এর আদর্শ কে সামনে রেখে তাঁর ই স্মরণে ১৯৪৮ সালে একটি ছোট্ট চালা ঘরে মাত্র ১২ জন ছাত্র কে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সারস্বত সাধনার এই বাণিপীঠ। বর্তমানে বিদ্যালয়টি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে ২০০৬ সালে (বিজ্ঞান, কলা, বৃত্তিমূলক পাঠক্রমসহ। পরিকাঠামোর অপ্রতুল্যতা থাক সত্যেও বৃত্তিমূলক পাঠক্রম চালু হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক পরীক্ষার ফলাফল বিগত কয়েক বছর ধরে সন্তোষজনক হচ্ছে। আরও উন্নত ফলাফলের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। দৈনিক পাঠভ্যাস, বাড়ীর কাজ ও একক অভিক্ষ্যার উপর বিশেস জোর দেওয়া হয়। নিজেকে সমাজের সুনাগরিক করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিশেষ বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠান মনীষীগণের আবির্ভাব ও তিরোধান দিবস মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন এর মধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করা হয়। ভাল মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সুন্দর আচরণ তৈরির আদর্শ প্রতিষ্ঠান হলো আমাদের বিদ্যালয়। পরিবেশবান্ধব মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিদ্যালয়ে সবুজ বাহিনী (Eco - Club)গঠন করা হয়েছে।
সর্বশিক্ষা মিশন এর অর্থানুকুল্যে বিদ্যালয়ের নতুন রন্ধনশালা নির্মিত হয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীবর্ষে (১৯৯৭ সালে)স্থানীয় শুভানুধ্যায়ী মানুষ ও তত্কালীন শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের অর্থ সাহায্যে বিদ্যালয়ে কিছু শ্রেণীকক্ষ নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে সাইকেল স্ট্যান্ড ও কিছু শ্রেণীকক্ষের উন্নিতিসাধনে প্রধানশিক্ষক মহাশয় সহ অন্যান্ন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষকর্মীগণের আর্থিক সাহায্যে বিদ্যালয় তরান্বিত হয়েছে। প্রতিবছর অভিভাবক-অভিভাবিকাবৃন্দের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় আজ এই স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা আশা রাখি বিরাট সম্ভাবনাময় এই বিদ্যালয় অভিভাবক, অভিভাবিকা, শুভানুধ্যায়ী, বিদ্যালয় সংলগ্ন তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষকর্মী সকলের শুভেচ্ছা, স্থানীয় স্তরের প্রশাসনিক সাহায্য ও সহানুভূতিতে এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি হবে এবং গৌরব শিখা ক্রমশ উজ্জলতর হবে।