History

খাঁপুর গাংচে ও এর আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের অকুণ্ঠ সহযোগিতায়, অর্থ ও ভূমি দান, কায়িক শ্রম এবং মুষ্টিভিক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৯ সালের ১লা মার্চে দুই শ্রেণীযুক্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করেছিল। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে, ১৯৬২ সালের ১লা জানুয়ারীতে চার শ্রেণীযুক্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে সরকারি অনুমোদন লাভের যোগ্যতা অর্জন করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় জনসাধারণের নিরলস প্রচেষ্টা এবং পরিচালকমণ্ডলীর দক্ষ পরিচালনার ফলে ১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে বিদ্যালয়টির আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং সরকারি স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীকালে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে।

 

এরপর বিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন এবং পরিকাঠামোগত মানোন্নয়নের কাজ পুরোদমে চলাকালীন সময়ে, ১৯৭৮ সালের ঐতিহাসিক প্রলয়কারী বন্যায় আসবাবপত্র ও সাজসরঞ্জামসহ সমগ্র বিদ্যালয়ের গৃহের বিলুপ্তি ঘটে, যা সমস্ত স্তরের মানুষকে হতাশ করে তোলে। তবে এই হতাশা ছিল সাময়িক। সংগ্রামী ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে এলাকার সমস্ত জনগণ স্বাভাবিক সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উন্নত প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে বিদ্যালয় পুনর্গঠনের আন্দোলনে সামিল হন। সেই সময়ে সামান্য সরকারি অনুদান এবং জনগণের সাহায্যে নির্মিত মাটির গৃহ একাধিকবার বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। ফলে পাকা বিদ্যালয় গৃহ নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত সরকারি অনুদান এবং গ্রামবাসীদের আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষাপ্রেমী, সমাজসেবী, সুদক্ষ পরিচালকমণ্ডলীর নেতৃত্বের কারণে বর্তমান খাঁপুর-গাংচে উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নত পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে।

 

আজও এই বিদ্যালয়টি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র স্থানীয় জনসাধারণের প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতায় একটি বিদ্যালয় কিভাবে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারে তা স্পষ্ট। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা এখানে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে যা তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে বিদ্যালয়ের সুনাম বাড়িয়ে তুলছে। স্থানীয় মানুষদের এই অবদান এবং আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরাও নিজেদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছেন, যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত হয় এবং বিদ্যালয়ের গৌরব বৃদ্ধি পায়। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে নতুন নতুন বিষয় সংযোজন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়টি আরও উন্নতির শিখরে পৌঁছাবে এই আশা সকলের।