
নাসরা উচ্চ বিদ্যালয় (উঃমাঃ) রাণাঘাট তথা নদীয়া জেলার সারস্বত সাধনার এক পবিত্র পীঠস্থান। ১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই জানুয়ারী কিছু বিদ্যোৎসাহী মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ বিভাগের যন্ত্রণা - কাতর অসংখ্য ছিন্নমূল পরিবারের সন্তানদের মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদান ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত করতে সূচনা হয় এই বিদ্যালয়ের। শ্রেণিশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনন- চিন্তনের পরিধিকে প্রসারিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা তথা শিক্ষাকর্মীবৃন্দ আন্তরিক ভাবে ব্রত। বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গণ জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের ঈর্ষার কারণ। দেওয়াল পত্রিকা “উন্মেষ” এবং সাহিত্য পত্রিকা “কোরক” ছাত্রদের সাহিত্য ও শিল্প চর্চার অন্যতম আয়ুধ। ক্রীড়াজগতে, ফুটবল, ক্রিকেট ও বিশেষ করে খোখো তে বিদ্যালয়ের নাম জেলা তথা রাজ্য ও জাতীয় স্তরে সম্ভ্রমের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। সমাজসেবা ও শিল্পকলা বিষয়েও এই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজ্যস্তরে সমাদৃত। সম্প্রতি “জাতীয় সেবা প্রকল্পে” রাজ্যের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের সম্মান লাভ করেছে ।
বিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাস পশ্চিমপ্রান্তে ১৯৫৪ সালে গড়ে ওঠে। তাঁর অধিকাংশ শ্রেণী কক্ষ বর্তমানে হয় সংস্কার হয়েছে অথবা নতুন করে গড়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়ের পূর্বপ্রান্ত ও মধ্যঞ্ছলের প্রাঙ্গণকে যুক্ত করে গড়ে উঠেছে E-Shape এর দ্বিতল নতুন ক্যাম্পাস। সংস্কার হয়েছে গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি গুলির। এখনও শ্রেণীকক্ষের অভাব রয়েছে।
বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রশস্ত খেলার মাঠ জেলার গর্ব। মহাকুমা জেলা তথা রাজ্য স্তরের বিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। তাছাড়া গোটা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হরতকী, রিঠা, অশোক, বকুল, কৃষ্ণচূড়া সহ তিনশোর বেশী বড় বড় গাছের সবুজ সম্পদের সমারোহ। রয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা পুরস্কৃত একটি ভেষজ উদ্যান, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত NSS বিভাগ। বৃত্তিমূলক শাখায় আমিন সার্ভে, মোবাইল রিপিয়ারিং এবং উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে ET, Marketing নিয়ে পড়ার সুযোগ। রয়েছে রবীন্দ্রমুক্ত বিদ্যালয়ের Study Centre যেখানে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনার অবকাশ রয়েছে।