আমাদের বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক হইতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকাগন উচ্চ যোগত্যসম্পন্ন,অভিজ্ঞ,সুদক্ষ এবং ট্রেনিং প্রাপ্ত। আলো বাতাস পূর্ণ প্রশস্ত বিদ্যালয় ভবনে সুস্থ পরিবেশ অভ্যন্তরীন সুব্যবস্থা নিয়ম-শৃঙ্খলা শিক্ষাথীদের মানসিক গঠনের পক্ষে সর্বতোভাবে অনুকূল। বিদ্যালয় সংলগ্ন উপযুক্ত ক্রীড়া প্রাঙ্গনে শরীরচর্চা ও খেলাধুলার প্রভৃতির আয়োজন শিক্ষাথীর সর্বাঙ্গীন বিকাশের সহায়ক। অভিজ্ঞ ট্রেনিং প্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকার দ্বারা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী বাগান তৈরি,নৃত্য,আবৃতি,কবিতা,গীত ,অঙ্কন অতি যত্ন সহকারে শিক্ষা দেওয়া হইয়া থাকে যাহা পরবর্তীকালে উহাকে জীবিকা হিসাবেও গ্রহণ করিতে পারে। আমরা সবাই শিক্ষার উন্নয়নে শিক্ষা সমর্কিত উপকরণ সহযোগে শিক্ষা প্রদান করা হয়। আমি সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো কারন যেভাবে সবাই আমাকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন,তা মনের মণিকোঠায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এইজন্য আমরা সবাই আমাদের বিদ্যালয় নিয়ে গর্বিত।
আমি অলকেশ ঘোষ,এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।আমি 29.08.2003 সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করি। 2005 সালে এক বছর টিচার ইন চার্জ ছিলাম। তারপর 3/2/2017 সালে আমি এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ হই।আমি প্রথম থেকে এই বিদ্যালয়ে আছি আর অবসর গ্রহণ করবো এই বিদ্যালয় থেকেই। তাই আমি প্রথম থেকেই যুক্ত। প্রথমে দেখেছি এই স্কুল চত্ত্বরে গরু,ছাগল চড়তে।টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ শুনতে শুনতে তাকিয়ে থাকতাম আর দেখতাম মাঝে মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা বিদ্যালয়ের ভিতরে পড়ত আর বেশী বৃষ্টি হবে বুঝতে পরলেই ছুটি দেওয়া হতো। তারপর বিভিন্নভাবে সংসদ ও সরকার বাহাদুরের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আজ স্কুল ভীষণ ভালো রূপ পেয়েছে। আমি একা নয়,পূর্বের প্রধান শিক্ষক আর বর্তমান সহকর্মীরা সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে এই ভালো রূপ দিতে পেরেছি। আমরা সবাই আলোচনা করে সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। পড়াশোনা কিভাবে উন্নতি করা যায় তা দিনের পর দিন আমরা ভীষণভাবে আলোচনা করেছি এবং তার ফল আমরা হাতে নাতে পেয়েছি। যেহেতু মাইনরিটি ছাত্রছাত্রী নিয়ে স্কুল তাই প্রথম থেকেই পড়াশোনা ছাড়াও নৃত্য,গান,কবিতা আবৃত্তি এইসব বিষয়ে পারদর্শী করার দায়িত্ব সবাই আমরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করি। বিশেষ করে দিদিমনিরা। এদের অনেকের মধ্যেই আমরা অসাধারণ সব প্রতিভা খূঁজে পাই। ওরা ছিলো কাদার দলা,আমরা সবাই মিলে ওদের রূপ দেবার চেষ্টা করেছি। আমরা বর্তমানে দাঁড়িয়ে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা করি,সবাই একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে। আমি সব সহকর্মী,ছাত্রছাত্রী,রাঁধুনি এবং অভিভাবক সবাইয়ের কাছে ভীষণভাবে চিরঋণী কারণ ওনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আমাদের বিদ্যালয়ের এই গর্ব। আমরা একটা পরিবারের মতো থাকি আর এর জন্য আমি প্রধান শিক্ষক হিসাবে গর্ব অনুভব করি।