

২০২5 শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিদ্যালয়ের সকলের পক্ষ থেকে রইল হার্দিক শুভকামনা । বিগত দশ বছরে আমাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামাের মধ্যে থেকে সাৰ্বজনীন শিক্ষা সম্প্রসারণ , শিক্ষার গুণগত মানােন্নয়ন , শিক্ষার অভিন্ন পাঠক্রম । বিন্যাস ও মূল্যায়ণ পদ্ধতি শিক্ষার মৌলিক দিকগুলিতে যথেষ্ট গুরুত্ব আরােপিত হয়েছে । সর্বজনের ন্যূনতম মৌলিক শিক্ষার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রভূত কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ।
সকলের জন্য উচ্চ - প্রাথমিক স্তরের শিক্ষালাভ সুনিশ্চিত করণে ও তাদের একটি নির্দিষ্ট কাঙ্খিতমানে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছিল “ সর্বশিক্ষা মিশন ” । ফলস্বরূপ ঘটল বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিপুলসংখ্যক ছাত্র - ছাত্রীর প্রবেশ । যদিও স্কুল ছুট - এর সমস্যা আজও বিদ্যমান । সর্বশিক্ষা মিশনের সাফল্যের বুনিয়াদের উপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে মাধ্যমিক স্তরীয় শিক্ষাব্যবস্থা , কিন্তু প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে মূল্যায়ণ ব্যবস্থার কিছু ত্রুটির কারণে মাধ্যমিক ও তদোর্ধ শিক্ষাব্যবস্থা তার কাঙ্খিত মানে পৌঁছতে পারছে না অথাৎ উচ্চ মাধ্যমিক স্তরীয় শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠিত “ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা মিশন ” -এর সফলতাও কিছুটা প্রশ্নের মুখে । তবুও আমাদের নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে যাতে আমাদের রাষ্ট্রের প্রতিটি শিশু যেন সার্বিক সফলতার সঙ্গে অন্ততঃপক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারে । এক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকাও অত্যন্ত উল্লেখযােগ্য ।
তবুও পারিপার্শিক আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বিগত বছর গুলিতে বহিঃমূল্যায়নের নিরিখে আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্র - ছাত্রীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ - মাধ্যমিক স্তরে ধারাবাহিকভাবে ভালাে ফলাফলের স্বাক্ষর রেখেছে । এতে প্রমাণিত হয় , আমাদের সকল ছাত্র - ছাত্রী তাদের পাঠে অধিকতর যত্নবান হলে এবং মাননীয় অভিভাবকদের নজরদারী আরও বাড়ালে আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে — এই আশা রাখি .
১৯৪৫ সালের ২ রা জানুয়ারী বিশিষ্ট শিক্ষাহিতৈষী স্বর্গীয় গদাধর দাস সহ এই এলাকার কতিপয় শিক্ষাদরদী ব্যক্তির মহতী প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে আমাদের সকলের প্রিয় এই বিদ্যামন্দিরটি । বিদগ্ধ শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষাকর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগীসহৃদয় ব্যক্তিবর্গের প্রশংসনীয় ঐকান্তিক সহযােগিতায় আমাদেরসকলের প্রিয় এই “ হরিপুর গদাধর বিদ্যাপীঠ ( উচ্চ - মাধ্যমিক ) ” ৭৫ টি বসন্ত অতিবাহিত করেছে খুবই সুনামের সঙ্গে । তাই এই বিদ্যামন্দিরে ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে প্লাটিনাম জয়ন্তী উৎসব এবছর মহাসমারােহে পালিত হবে ।
২০১৩ সালে আমাদের এই বিদ্যালয় উচ্চ - মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয় । যেখানে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগ চালু করার প্রয়ােজনীয় অনুমােদন থাকলেও আমরা কলা বিভাগে শিক্ষকদের সহায়তায় কেবলমাত্র এই বিভাগটি উচ্চ - মাধ্যমিক স্তরে পঠন - পাঠনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি । যদিও উক্ত সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষক নিয়ােগ হয়নি । উক্ত বিভাগে প্রয়ােজনীয় শিক্ষকের অভাবে বিজ্ঞান বিভাগ খােলাও সম্ভব হয়নি । তবু আমরা সর্বতােভাবে সচেষ্ট রয়েছি ২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ চালু করার । এই শিক্ষক অপ্রতুলতার মধ্যেও বিগত বৎসরগুলিতেআমাদের বিদ্যালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যথেষ্ট ভালাে ফল করছে । আমরা আগামী দিনে । শিক্ষা দপ্তরের নিকট আবেদন করবাে এই শিক্ষক অপ্রতুলতা দূর করার জন্য ।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে নিয়মিত যেমন খেলাধূলার চর্চা হয় ও Multigym ব্যবহৃত হয় , ঠিক তেমনই তাদের সাংস্কৃতিক মনষ্ক করে তােলার লক্ষ্যে আমাদের বিদ্যালয়ে পালিত হয় বিশেষ বিশেষ দিনগুলি । যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের উপরও । আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে তার জন্য পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সকল ছাত্র - ছাত্রীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণেরও সুব্যবস্থা রয়েছে । বিদ্যালয়ে Vocational Course বা বিত্তিমূলক শিক্ষা চালু করার জন্যও আমরা কারিগরী শিক্ষা বিভাগের সঙ্গেও যােগাযােগ শুরু করেছি ।
নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই বিদ্যামন্দিরের খ্যাতি ও চিরাচরিত ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রাখতে আমরা এই পরিবারের সকলেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও বদ্ধপরিকর । আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ ও ঐকান্তিক অকুণ্ঠ প্রয়াস । আর আমাদের এই প্রয়াসে আপনাদের সকলের সক্রিয় সহযােগিতা এবং সহনুভূতিতে এই বিদ্যায়তনটির সার্বিক কল্যাণ হােক , নিবিড় হােক সমাজের সাথেছাত্র - ছাত্রীদের যােগসূত্র এবং প্রত্যেক ছাত্র - ছাত্রী হয়ে উঠুক সত্যিকারের প্রকৃত মানুষ ” ।