
আদিনা মসজিদ, অবলোকিতেশ্বর, ফিরোজ মিনার, দাখিল দরওয়াজা বা একলাখী সমাধিভবনের মতো ঐতিহাসিক স্থাপত্য কীর্তির থেকে অনেকটা দূরে বাংলা-বিহারের প্রান্তসীমায় জন্ম নেওয়া এই বিদ্যালয়ের ইতিহাসও কম ঐতিহাসিক নয়। উদয়পুর, রাজকিশোর টোলা, লিলারাম টোলা, সাহানগর, সম্বলপুর বা বদন টোলা থেকে বাচ্চাদের অনেকদুরের উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যেতে হত। রাস্তাঘাট তেমন ছিল না বললেও অত্যুক্তি করা হবে না। বিভিন্ন প্রতিকুলতার জন্য প্রাথমিকের পর আর বিদ্যালয়ে না যাওয়াটাই ছিল যখন একরকম অলিখিত নিয়ম, এলাকার কিছু শিক্ষাব্রতী কর্মোদ্যমী যুবক স্বপ্ন দেখলেন অন্যরকম। সালটা তখন ১৯৮১। বলরাম পুর ম্যানেজ প্রায়মারী স্কুলের ভবনে বিনা প্রারিশ্রমিকে তাঁরা শুরু করলেন উচ্চ প্রাথিমিকের শিক্ষাদানের কাজ। পথচলতে শুরু করল উদয়পুর জুনিয়ার স্কুল। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ১৯৮৭ সালে এল সরকারী স্বীকৃতি। এলাকার বিশিষ্ঠ শিক্ষাপ্রেমি মানুষ দান করলেন জমি। তৈরি হল বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন। তারপর থেকে সময়টা শুধুই পিছনে না তাকিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। খামতি অবশ্য একটা থেকেই যাচ্ছিলো। ২০০০ সালে জুনিয়ার থেকে মাধ্যমিকে উন্নীত হওয়াতে সেটা অনেকাংশে পুরন হল। শেষপর্যন্ত ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের স্বীকৃতি পাওয়াতে পূর্ণ হল একটা বৃত্তের। খুশীতে উদ্বেলিত হল সমগ্র এলাকা। উচ্ছ্বসিত হলেন বিদ্যালয়ের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রতিটা মানুষ। তৃপ্ত হলেন এই বিদ্যালয়কে সৃষ্টি করার প্রধান কাণ্ডারিরা। তৃপ্ত হলেও শুরু হল আবার নুতন কর্মোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পরা। উদয়পুর উচ বিদ্যালয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার অনুমোদিত বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের বাবস্থা আছে। এই বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একটি অন্যতম আকর্ষক দিন হিসাবে এলাকায় স্থান করে নিয়েছে। সাংস্কৃতিক বিভাগে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পারদর্শিতা ব্লক ও জেলাস্তরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আরো উন্নত আধুনিক শিক্ষাদানের পরিবেশ তৈরি করে রাজ্যের শিক্ষা মানচিত্রে একটি বিশেষ স্থান অর্জন করতে উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয় সংকল্পবদ্ধ।
For details please visit http://www.facebook.com/Udaipurhs/