History

দেশ তখনও স্বাধীন হয়নি। অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা ছিল একটি পিছিয়ে পড়া জনপদ। এলাকায় ছিল না কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার ফলে বাড়ছিল কুসংস্কার, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি। ঠিক সে সময় স্থানীয় কয়েক জন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাঁদের উৎসাহ দিতে পাশে দাঁড়ান জমিদার ফণিভূষণ সাহা। দলিল অনুযায়ী ১৪৪ শতক জমি ছিল এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাতে। কিন্তু বর্তমানে ভগবানগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের হাতে সব জমি চলে যাওয়ায় মাত্র ৫ শতক জমি রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাতে।প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল ১৯৪২ সালে, তখন বিদ্যালয়ের নাম হয় ভগবানগোলা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়। কয়েক বছর পরে ১৯৪৯ সালে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়ে ভগবানগোলা উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত হয়। তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বিভাগ আলাদা হয়ে ভগবানগোলা উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজের মতো আলাদা ভাবে চলতে শুরু করে। প্রথমে মাটির ঘর, টিনের ছাউনি, আর হাতে গোনা কিছু পড়ুয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল স্কুলটি। বর্ষাকালে পড়াশোনায় সমস্যা হত।১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদের অনুদান এলেও জমির কাগজের অভাবে কাজ হয়নি। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফ থেকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।