History

"মায়ের শিক্ষা আগে হলে শিশু শেখে মায়ের কোলে "

আজ থেকে ৫০ বছর পূর্বে এই কথাটি অনুধাবন করেছিলেন মাটিয়ারী  গ্রামের কয়েকজন কৃতি সন্তান অধ্যাপক  ঁসুধাংশু শেখর সেন, শিক্ষক ও বিধায়ক ঁশিবশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়, ঁজয়দেব লাহা ও অধ্যাপক শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়গন । তাঁদের উদ্যোগে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হল বালিকা বিদ্যালয় ' মাটিয়ারী গালর্স একাডেমি'( ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণী) । তখন বিদ্যালয়ের কোন নিজস্ব ভবন ছিল না। মাটিয়ারী রাম পদ সেন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এর কয়েকটি ঘরে সকালে বিদ্যালয় হত। প্রথম প্রধান শিক্ষিকা সুরশ্রী   সরখেল। 

এরপর দীর্ঘদিন ঐভাবে বিদ্যালয় চলল। ১৯৯৫-৯৬ সালে আবার মাটিয়ারী গ্রামের কয়েকজন সু সন্তান এগিয়ে এলেন বিদ্যালয় কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ করতে ও নিজস্ব ভবনের জন্য। অধ্যাপক শ্রী বাসুদেব বর্মন ( উপাচার্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়) , ঁঁ রমেশ চন্দ্র মল্লিক ( আই. টি. এস.) ,ঁ অসীম কুমার দত্ত ( শিক্ষক) ,  ঁ শিবপ্রসাদ বিশ্বাস ( সম্পাদক) ,        শ্রী বিভূতিভূষণ কর ( শিক্ষক) , শ্রী মহাদেব চন্দ্র ঘোষ (শিক্ষক) , শ্রী কার্তিক চন্দ্র দে, শ্রী হারুগোপাল রুদ্র ( শিক্ষক) , শ্রী জয়নাল আবেদিন প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তি। ঐসব ভদ্র মহোদয়গন সর্বশক্তি দিয়ে এই মহান কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। নব ভবনের জন্য জমি দরকার। ইতিমধ্যে মাটিয়ারী রাম পদ সেন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এ নতুন পরিচালন সমিতি গড়েছে যার সভাপতি ঁরমেশ চন্দ্র মল্লিক ও সম্পাদক শ্রী ধনপতি ভট্টাচার্য ও অন্যান্য সদস্যরা এবং প্রধান শিক্ষক শ্রী রাজীব নারায়ণ মুখার্জী হাইস্কুলে র ফুটবল মাঠের দক্ষিণে ৫২ শতক জমি গালর্স একাডেমি' কে দান করেন। ১৯৯৯ সালে ৬ই মার্চ এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রার মধ্যে দিয়ে গালর্স একাডেমি'র নব ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হল। এই উপলক্ষে গ্রামের মানুষের কি উদ্দিপনা। ইতিমধ্যে মাটিয়ারী গালর্স একাডেমি' হাই হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়েছে। এবার প্রয়োজন নব ভবনের জন্য প্রচুর অর্থ। 

" আমার ভান্ডার আছে ভরে তোমা সবাকার ঘরে ঘরে " এই বিশ্বাস ছিল ঁঅসীম বাবু( সবার প্রিয় বাসুবাবু) ও ঁরমেশ বাবুর মধ্যে । নিজেরা এককালীন ২০,০০০/- টাকা দান করেন। এইভাবে আরো ৩১ জন মহান মানুষ এককালীন ২০,০০০/- দান করেন। বিদ্যালয় তাঁদের আজীবন সদস্য পদের সন্মান জানান। এদের সঙ্গে যুক্ত হলেন গালর্স একাডেমি' র কয়েকজন শিক্ষিকা বসু শ্রী গাঙ্গুলী, প্রতিমা দাস, ঁমায়া দাস প্রমুখ। মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে তাঁরা অর্থ সংগ্রহ করেন। ফলে খুব দ্রুত ২০০০ সালের ১৮ ই সেপ্টেম্বর মাটিয়ারী গালর্স একাডেমি' হাই এর নব ভবনের দ্বার উন্মোচন হল। তখন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকা র ঘাটতি এগিয়ে এলেন রাম পদ সেন স্মৃতি বিদ্যালয় এর কয়েকজন শিক্ষক ও গ্রামের শিক্ষিত কিছু তরুণ প্রজন্ম। চলল পাঠদান। বিদ্যালয় এর  প্রধান ফটক     ঁরমেশ চন্দ্র মল্লিক মহাশয় তাঁর পিতা   ঁঅমরেশ চন্দ্র মল্লিক মহাশয়ের স্মৃতি তে নির্মাণ করলেন। ইতিমধ্যে আমরা হারালাম  ঁঅসীম কুমার দত্ত (২০০১ সালে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি) । ঁরমেশবাবু অসীম বাবুর স্মরণে নির্মাণ করলেন 'অসীম মঞ্চ' ও ' '   'অসীম স্মৃতি কক্ষ'। 

আবার পথ চলা  -- অর্থ দিলেন মাননীয় সাংসদ জ্যোর্তিময়ী শিকদার, মাননীয় বিধায়ক  ঁআব্দুল সালাম মুন্সী, মাননীয় শ্রী আশুতোষ ঘোষ নদীয়া জেলা পরিষদ উন্নয়ন ফান্ড থেকে অর্থ দেন। এছাড়াও সর্ব শিক্ষা উন্নয়ন  অর্থে বিদ্যালয় ভবন আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়ে। ২০১৪ সালে বিদ্যালয় উচ্চ মাধ্যমিক (কলা বিভাগ)  উন্নীত হয়। 

২০২০ সালে ২২ শে জানুয়ারি বিদ্যালয়ে সূবর্ণ জয়ন্তী পালিত হয়। দুইদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। 

ইতিমধ্যে শুরু হল দেশ জুড়ে কোভিট-১৯ এর সংক্রমণ.... বিদ্যালয় লকডাউন হল ( পর:ব:সরকারের নির্দেশ)  কিন্তু প: স: নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে প্রতি মাসে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রীদের অভিভাবক গণের হাতে মিড-ডে-মিল দপ্তরের নির্দেশ মতো চাল, আলু, কোন মাসে সাবান, স্যানিটাইজার, ছোলা, অ্যক্টিভিটি টাস্ক (পঞ্চম- দশম শ্রেণী পর্যন্ত) তুলে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক, ২০ ও উচ্চ মাধ্যমিক, ২০ রেজাল্ট, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ভর্তি ও বই, খাতা বিতরণ, দশম শ্রেণী র চেক লিস্টে সহি ইত্যাদি সমস্ত কাজ চলছে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে।  

এরমধ্যে আমরা হারালাম আমাদের বিদ্যালয় এর বড় আপনার ও হিতাকাঙ্ক্ষী ঁরমেশ চন্দ্র মল্লিক মহাশয়কে। বিদ্যালয় থেকে তাঁর মৃতদেহ কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম না। নীরবে তিনি চলে গেলেন..... তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রনাম জানিয়ে আবার আমাদের পথ চলা শুরু..... 

                  " তোমার পতাকা যারে দাও

                    তারে বহিবারে দাও শক্তি " 

                                  নমস্কার