
1948সাল দেশ স্বাধীন হলেও এলাকায় কোনো শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় বেশিরভাগ শিশুই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল । শিক্ষা দরদি কিছু মানুষ এগিয়ে আসেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য। শুরু হয় জমির সংগ্রহের কাজ। দুজন মহতি মানুষ এগিয়ে আসেন নিঃস্বার্থভাবে। নাবালক সাসের আলি মন্ডল ও খালেক মণ্ডল এর পক্ষে 44 শতক জমি দান করেন তাদের অভিভাবক ১-মোহাম্মদ হেরাজতুল্লা মন্ডল ও ২-একুশ শতক জমি দান করেন মহামতি মায়াবতী পাল মহাশয়া। এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে মাননীয় শ্রী গণেশ দত্ত সুবোধ ঘোষ ও প্রফুল্ল নাগ এই তিনজন গুণী ব্যক্তি শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করেন বিনা পয়সায় পঠন পাঠন। ভর্তি হতে থাকে একের পর এক ছাত্র-ছাত্রী। ক্লাস শুরু হয় খোলা মাঠে। বৃষ্টি আসলে ছুটি হয়ে যায় স্কুল। গ্রামের অভিভাবকরা এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত নিয়ে কেউ দান করেন বাশ কেউবা তালপাতা-নির্মিত হয় বাসের কাঠামো তাল পাতার ছাউনি ও ছিটে বেড়ার দেয়াল দিয়ে ঘেরা নতুন বিদ্যালয় গৃহ-এলাকার শিক্ষা মন্দির। এলাকাটি ছিন্নমূল পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিদ্যালয়ের নাম দেয়া হয় অম্বিকানগর বাস্তুহারা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় নির্মাণে ও উন্নতিকল্পে বটকৃষ্ণ পাল মহাশয় এর নাম অনস্বীকার্য I
অবশেষে 1950 সালের 1 লা এপ্রিল সরকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার নিজের দায়িত্বে নেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম হয় অম্বিকানগর জি, এস, এফ, পি স্কুল। মুক্তি পান তিনজন সাংগঠনিক শিক্ষক। শুরু হয় তাদের সরকারি বেতন। সরকারি খরচায় নির্মিত হয় একটি পাকা শ্রেণিকক্ষ। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান মাননীয় শ্রী গণেশ দত্ত মহাশয়। শিক্ষক মহাশয়দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি এতদঞ্চলের অন্যতম একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
এই বিদ্যালয়ের রেজাল্ট বরাবরই সন্তোষজনক। এখান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা ডাক্তার ,নার্স, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, আইনজীবী, পুলিশ প্রশাসন প্রভৃতি পেশায় নিযুক্ত হয়ে কাজ করে চলেছে নিরন্তর।
পরিশেষে বলি সকলের প্রচেষ্টায় যেভাবে এই বিদ্যালয়ের ভিত্তি রচিত হয়েছিল সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে আসুন আমরা সকলে মিলে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরো উন্নততর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে চলি।