
সময় টা ছিল আটের দশক, দু-তিন জন ব্যক্তির মনে উঁকি দিল এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এলাকার ছেলেমেয়ে দের আরও একটু বেশি করে লেখাপড়া শেখার সুযোগ সুবিধা কি করে করা যায় তার ভাবনা চিন্তা।ওই দুজন ব্যক্তির মধ্যে একজন ছিলেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর যে দুজন তারা বোধহয় বিদ্যালয়ের মুখ পর্যন্ত দেখেননি।এরা নিজেরা প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও এলাকার অন্যান্য খেটেখাওয়া শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত লেখাপড়া না জানা মানুষদেরকেও সঙ্গে নিতে ভুল করেননি। এভাবেই শুরু হলো একটি জুনিয়র হাই স্কুল পাওয়ার পথ চলা। সালটা ১৯৭৩ সাল হবে, এদের মাথায় চিন্তা এলো বিদ্যালয় স্থাপন করতে গেলে একটি বড় আকারের সাধারণ সভা করা প্রয়োজন। সেই চিন্তা ভাবনা অনুসারে ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে সম্ভবত ডিসেম্বর মাসে পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলির মানুষদের নিয়ে বিশেষ করে কালিনগর ও নোয়াপাড়া গ্রামের মানুষ সকলের সহযোগিতায় একটি বড় আকারের মিটিং ডাকা হল সেই সভাতে সবিস্তারে আলোচনা করার পর একটি জুনিয়র হাই স্কুল স্থাপন ও চালু করার কথা চিন্তা ও সিদ্ধান্ত করা হলো। তার সকল দায়-দায়িত্ব মূলত ওই তিন ব্যক্তি ছাড়াও আরো কয়েকজন ব্যক্তির উপরে দেওয়া হলো। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা পেতে গেলে তার বিভিন্ন দিক গুলি স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হয় সেই দিকগুলির স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে গিয়ে তাদের মনে চিন্তা এলো বিদ্যালয় চালাতে গেলে প্রথমে তো বিদ্যালয় গৃহনির্মাণ তারপর ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ ও কয়েকজন শিক্ষক প্রয়োজন। বিদ্যালয় গৃহতো নির্মাণ হবে কিন্তু তার জন্য চাই উপযুক্ত জায়গা, সেই জায়গা দেওয়ার জন্য এগিয়ে এলেন দুজন বিদ্যালয়ের মুখ না দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন তিনি হলেন নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা, নাম শামসের মোল্লা। তিনি তার জমি এই নবনির্মিত বিদ্যালয় হবে বলেই দান করলেন। বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ওই দুজন লেখাপড়া না জানা মানুষ দুটি ও বিদ্যালয়ের করনিক (পরবর্তীতে হয়েছিলেন) এগিয়ে এলেন। একটি অপ্রস্তুত জায়গার ওপর শুরু হল বিদ্যালয় গৃহনির্মাণ খেজুর গাছের কয়েকটি খুঁটি মাটির দেয়াল দিয়ে বেড়া দিয়ে ঘেরা মাথার উপর খর ও তাল পাতার ছাউনি, এই হল বিদ্যালয়ের ঘর। আর শিক্ষক মশাই লেগে পড়লেন বিদ্যালয় চালাতে গেলে তার যে ছাত্র ছাত্রী শিক্ষক প্রয়োজন ও কাগজ পত্র ঠিকঠাক করার কাজে।
শুরু হলো পার্শ্ববর্তী গ্রাম গুলি থেকে ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহ করার কাজ, সেই সঙ্গে তাদের পঠন-পাঠনের জন্য শিক্ষক শিক্ষা কর্মী সংগ্রহের কাজ। কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষা কর্মী ছাত্র-ছাত্রী পাওয়ার আশা ও আভাস পাওয়া যাওয়ার পর কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষা কর্মী চাকরি পাওয়ার আশায় তারাও এগিয়ে এলেন,ও এই বিদ্যালয়ের নির্মাণের কাজে হাত দিলেন। বিদ্যালয় স্থাপন হয়েছিল অতীতে যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ঠিক তার কাছেই যদিও বিভিন্ন সময়ে ভাঙ্গা চোরার কারণে আজকের বিদ্যালয়ের রূপ পরিবর্তন হয়ে গেছে। কয়েক বছর ধরে অনেক প্রচেষ্টার ফলে কয়েকবার ইনস্পেকশন করার মধ্য দিয়েও এলাকার তৎকালীন একজন জেলা পরিষদ সদস্যের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় কামারগাতী হাই স্কুল এর সাহায্যে ও শিক্ষকমহাশয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অবশেষে ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে আদিবাসি অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত পরিচয়ে একটি অর্গানাইজিং জুনিয়র হাই স্কুল রুপে প্রতিষ্ঠা পেল।
NOAPARA KALINAGAR HIGH SCHOOL
HAROA , NORTH 24 PARGANAS
ESTD-1974