
দমদম মতিঝিল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ১৯৪৯ এ প্রতিষ্ঠিত হয়। মতিঝিলস্থ “ কৃষ্ণকুমার হিন্দু একাডেমী “ নামক বালক – বিদ্যালয়ে প্রাতঃকালে এই বিদ্যালায়ের সুচনা হলেও ১৯৬৭ সালের ৩রা জানুয়ারী দমদম রোডের উপর এই বিদ্যালায় এর নিজস্ব ভবনে তা স্থানান্তারিত হয় এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পারগনা জেলায় বালিকা বিদ্যালায় সামুহের মধ্যে আক্তি বিশেষ স্থান লাভ করেছে। মতিঝিলের তৎকালীন কিছু বিদ্যোৎসাহী , শিক্ষানুরাগী দের একান্ত প্রচেষ্টায় এই বালিকা বিভাগের শুরু। সেই সময় যারা এই বিদ্যালয় স্থাপনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন ,আজ তারা প্রায় সকলেই প্রয়াত হলেও বর্তমানের বিদ্যালয় তাদের স্মরণে প্রতিনিয়তই মুখর । এদের মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বর্গত বি.বি. দত্ত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পদাধিকারি ও শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী যুক্ত সুরেন্দ্র মোহন গাঙ্গুলি ইত্যাদি আরও আনেকের নামই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় । এই বিদ্যালয়ের যিনি প্রথম প্রধান শিক্ষিকার পদ অলংকৃত করে নিজ জীবনের প্রায় সর্ব স্ব উৎসর্গ করেছেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কল্যানে,তিনি হলেন আমাদের সবার প্রিয় শ্রদ্ধেয় া শ্রী যুক্তা বাসন্তী সেন মহাস্যা,তার অক্লান্ত প্রচেষ্টা ,নিষ্ঠা, নিঃস্বার্থ অবদান যে কোন শিক্ষিকার কাছেই প্রেরণা স্বরুপ । তিনি তার এক মাত্র অকাল প্রয়াতা কন্যা , বিদ্যালয়ের ই প্রাক্তন ছাত্রী শ্রীমতী করবী সেনগুপ্ত এর নামে একটি সুবৃহৎ হল ঘ্র এবং দাদা প্রভাত রঞ্জন দত্তের নামে একটি গ্রন্থাগার নির্মাণ এর যাবতীয় আর্থিক দায়িত্ব স্বেছায় গ্রহন করেন। সুছনায় এই বিদ্যালয়ের আকার যা ছিল আজ যে তা কেবল কলেবর এই বৃদ্ধি হয়েছে তা নয় ,পঠন পাঠন এর মান ও আনেক বর্ধিত হয়েছে । আর যে সব শিক্ষিকার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে – আজ তারা অনেকেই বিদ্যালয় থেকে অবস্র গ্রহন করলেও তাদের অবদান এই প্রতিষ্ঠানের সুনামের সঙ্গে অতপ্রত ভাবে যুক্ত হয়ে আছে । স্বর্গতা মিরা সর্বাধিকারী , স্বর্গতা ছবি সেন , স্বর্গতা মঞ্জু চট্টোপাধ্যায় , স্বর্গতা বীণা কাঞ্জিলাল , স্বর্গতা নিহারকনা গাঙ্গুলি , স্বর্গতা রাজলক্ষী সেন গুপ্ত , স্বর্গতা ঊষা গুপ্ত , স্বর্গতা অর্চনা সেন গুপ্ত , স্বর্গতা বাসন্তী সেন , স্বর্গতা শুভা রায় , স্বর্গতা পূর্ণিমা গাঙ্গুলি , স্বর্গতা গীতা দত্ত , স্বর্গতা কমলা মুখোপাধ্যায় , স্বর্গতা মানসী সরকার , স্বর্গতা কৃষ্ণা খাজাঞ্চি , স্বর্গত সম্পাদক ডঃ সুবোধ কুমার সেন মহাশয় ইহজগৎ থেকে বিদায় নিলেও আজও বিশেষ ভাবে স্মরনি্য় হয়ে আছেন ।
এছাড়া এখনো যাদের শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ নিত্য বর্ষিত হচ্ছে তাদের মধ্যে শ্রী যুক্তা গীতাঞ্জলি সেন, শ্রীযুক্তা লতিকা ঘোষ, শ্রী যুক্তা ধীরা রায়, শ্রীযুক্তা রেণুকণা বন্ধ্যোপাধ্যায়, শ্রীযুক্তা গীতা রায়, শ্রীযুক্তা রেবা সেন, শ্রী যুক্তা কনা মজুমদার, শ্রী যুক্তা পার্বতী ভট্টাচাৰ্য, শ্রীযুক্তা কৃষ্ণা সেন, শ্রী যুক্তা অনিমা ঘোষাল, শ্রী যুক্তা জ্যোৎস্না লাহিড়ী, শ্রীযুক্তা বীথিকা চক্রবর্তী, শ্রী যুক্তা অপর্ণা লাহিড়ী,শ্রী যুক্তা জয়শ্রী মুখোপাধ্যায়,শ্রীযুক্ত মমতা চক্রবর্তী, শ্রী যুক্তা কাজল ঘোষ, শ্রী যুক্তা মিলি সেনগুপ্ত, শ্রী যুক্তা উমা ভৌমিক, শ্রী যুক্তা নিবেদিতা চক্রবর্তী,শিক্ষাকর্মী শ্রীমতি জয়া সরকার, শ্রীমতি মিনতি মন্ডল এর অবদানযথেষ্ট স্মরণ যোগ্য। শিক্ষা কর্মী ভিন্ন আমাদের সহকর্মী স্বর্গতা ননিরানি দাস( রঘুর মা), স্বর্গত কাশীনাথ দাসগুপ্ত,স্বর্গত হৃষিকেশ দত্ত,স্বর্গত উমাপ্রসাদ বসু,স্বর্গত রবীন্দ্রনাথ পাল এবং প্রথমাবধি এই বিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত এবং অবসর প্রাপ্তা শ্রী যুক্তা উষারাণী রায় এর অবদান ও স্মরণীয়।আমাদের এই বৃহৎ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রধান শিক্ষিকা রূপে যিনি বিশেষ ভাবেস্মরণীয় ও বরণীয়, বিভিন্ন গুনে অধিকারিণী,তিনি হলেন পরম শ্রদ্ধায়া শ্রী যুক্তা জয়শ্রী রায়, তার প্রশাসনিক দক্ষতায় ও সাংস্কৃতিক মনন- চেতনায় এই বিদ্যালয়ের সুনাম এতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে যে,তার সুফল অদ্যাবধি বিদ্যালয় টিকেদমদম এলাকার মধ্যে অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। তার ই নেতৃত্বে ও পরিচালনায়১৯৯২ এ এই বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান স্বাড়ম্বরে পালিত হয়ে বহু প্রশংসা লাভে সমর্থ হয় এবং এর সুনাম ও বহুদূর বিস্তৃত হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা এবং পঠন পাঠন এর গুণমান, সর্বোপরি পরীক্ষার ফলাফল এতদাঞ্চলে বহু অভিভাবকের কাছেই যথেষ্ট মর্যাদা ও সম্ভ্রমের দাবী রাখে।ফলে এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা হিসেবে, একজন শিক্ষাকর্মী হিসেবে, একজন ছাত্রী হিসেবে- সকলেই যথেষ্ট আত্মশ্লাঘা বোধ করতে পারেন।
উন্মুক্ত খোলামেলাবিশুদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে, সুবৃহৎ ক্রীড়াপ্রাঙ্গন ও একটি বিশালাকায় জিমনেশিয়াম হল সমন্বিত ত্রিতল বিশিষ্ট এই বিদ্যালয় টিতে নার্সারি বিভাগ( ইংরাজি মাধ্যম) এবং পঞ্চম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী( বাংলা মাধ্যম),এবং একাদশ - দ্বাদশ ইংরেজি মাধ্যমে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগেএবং একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীতে বাংলা মাধ্যমে আর্টস, সাইন্স,কমার্স ও ভোকেশনাল বিভাগে পঠন পাঠনের যে সুশৃঙ্খল ও সুবন্দোবস্ত আছে তা এই অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের শুভেচ্ছা ও সহযোগিতয় আরও সমৃদ্ধি লাভ করবে- এই কামনা করি।