
১৯৬৯ সালের ৬ই জানুয়ারী সাহিত্য, সংস্কৃতি ইতিহাসের শহর বনগাঁয় সূচনা হল আর এক ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত হল কুঠিবাড়ী আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয় । 'নীল নীলদর্পণ ' এর নয়, বাস্তবের নীলকর সাহেবদের ভগ্নকুঠির উপর গড়ে উঠল সরস্বতীর পীঠস্থান । মূলত বাবসায়ী, আদিবাসী, ছিন্নমূল শরণার্থী, তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষেদের বাস এই কুঠিবাড়ীতে । এই মানুষদের মধ্যে শিক্ষার আলোর প্রসারে এগিয়ে আসলেন সমাজের কিছু দূরদর্শী মানুষ । জননেতা শ্রদ্ধেয় স্বর্গীয় অসিত বিশ্বাস, শিবপ্রসাদ বসুর অনুপ্রেরণায় ও সহযোগিতায় শ্রী ললিত কুমার বিশ্বাস মহাশয়ের উদ্যোগে শুরু হল বিদ্যলয়ের পথচলা । জমি দান করলেন ভবতারন বিশ্বাস ও স্বর্গীয় লালমতি বিশ্বাস মহাশয় । শিক্ষাব্রতী এই মানুষদের আমরা জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা । প্রথম সংগঠক প্রধান শিক্ষক শ্রী পরিতোষ বিশ্বাস, তারপর শ্রী মুকুন্দ বিহারী বৈরাগী মহাশয় । ১৯৭২ সালে দায়িত্বে এলেন শ্রী আমিয় রঞ্জন মণ্ডল মহাশয় । ১৯৭৪ সালের ৪ঠা এপ্রিল এল আকাঙ্খিত শিক্ষা দপ্তরের সরকারী অনুমোদন । আর তার কয়েক বছরের মধ্যেই এল পঞ্চম শ্রেণির অনুমোদন । বোধিবৃক্ষের যে বীজ সে দিন রোপিত হয়েছিল আস্তে আস্তে তা আজ মহীরুহে পরিনত হচ্ছে । ইছামতীর স্রোত ধারার মতো আমরাও ধীরে ধীরে পৌঁছে গেলাম ৫০ শে ।
সে দিনের সেই টালির চাল, বাঁশের বেড়ার স্কুল ঘর আজ দ্বিতল দুটি পৃথক বিল্ডিং এ রুপান্তরিত হয়েছে । বর্তমানে প্রাকপ্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ১৮২ জন । শিক্ষক শিক্ষিকা ৬ জন । আমাদের বিদ্যালয়ে শিশু সংসদ ইকো ক্লাব গঠিত হয়েছে । বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিশুর জন্মদিন, বসন্ত উৎসব, রাখী বন্ধন উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয় । বিদ্যালয়ে নতুন বিজ্ঞান কক্ষের কাজ চলছে । মাননীয় পৌরপ্রধান শ্রী শঙ্কর আঢ্যের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও শিশু উদ্যান নির্মিত হয়েছে । আমরা তৈরি করেছি সব্জিবাগান, ভেষজ উদ্যান, ফুলের বাগান, গ্রীন ওয়াল । কাজ চলছে জৈব সার উৎপাদন ও '' জলধরো - জল ভরো '' প্রকল্পের ।
যদিও এখনো অনেক পথচলা বাকি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার, প্রোজেক্টর, ওয়াটার পিউরি ফায়ার, ফ্যানের একান্ত প্রয়োজন - যেগুলির বাবস্থা আমরা এখনো করে উঠতে পারিনি । পুরাতন শ্রেণি কক্ষটিরও দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন । আমাদের সাধ আছে, সাধ্য সীমিত । তবুও চেষ্টা করে চলেছি এগিয়ে যাওয়ার । আমরা আশা রাখি আপনাদের সকলের সক্রিয় সহযোগিতায় আমাদের এই স্বপ্ন একদিন সফল হবেই । আপনাদের সকলের শুভকামনা ও আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বলি - We shall over come some day.