
আজ পিছন ফিরে তাকালে প্যাপাইরাস বর্ণ স্মৃতি কিছু বড়ই রঙিন উজ্জ্বল , কিছু বা ধূসর । বিগত ৩০ শে নভেম্বর , ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন বাঁকুড়া জয়পুরের প্রত্যন্ত প্রান্তে অবস্থিত একেবারেই অনুন্নত , অবহেলিত জুজুড় এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির বিদ্যোৎসাহী কয়েকজন নমস্য ব্যক্তির উদ্যোগে একটি সভা আহূত হয় । উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলি থেকে অনেক দূরে , শিক্ষা বিষয়ে অনুগ্রসর যােগা যােগের উপযুক্ত পথ ঘাট - হীন প্রান্তীয় গ্রামগুলির দারিদ্রক্লিষ্ট জনগণের সন্তান সন্ততিরা যাতে সুশিক্ষার আলােক স্পর্শ লাভ করে ।
সেই সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সর্বসম্মত নিবাচনের মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় পরিচালন সমিতি গঠিত হয় । যার সভাপতি নির্বাচিত হন বসন্তপুর গ্রামনিবাসী চন্দ্র শেখর বিশ্বাস মহাশয় তিনিই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি । সম্পাদক নির্বাচিত হন জুজুড় গ্রামের অধিবাসী রাসবিহারী বিশ্বাস মহাশয় তিনিই প্রতিষ্ঠতা সম্পাদক ।
জুজুড় গ্রামের তরুণ যুবক শ্ৰী মাণিক বিশ্বাস আই , এ . মহাশয় প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন । পরবর্তী কালে তিনি বি.এ. , এম.এ. বি.টি ও ডি.ই.এল.টি পাশ করেন । এখানে উল্লেখ করা যায় যে শ্রী মানিক বিশ্বাস মহাশয় বি . এ . পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিগত ৩-১-১৯৫৬ তারিখ থেকে ২৬-১-১৯৫৬ তারিখ পর্যন্ত যােগ । দিতে পারেন নি । ঐ সময় প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাজ চালান পঙ্কজ কুমার ঘােষ , বি . এস . সি . মহাশয় । জুজুড় গ্রামের মধ্যবয়সী উদ্যমী পুরুষ চারুচন্দ্র রায় , ম্যাট্রিক মহাশয় এবং সুধাংশু শেখর হাজরা মহাশয়কে সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়ােগ করা হয় । চতুর্থ শ্রেণির কর্মীনিযুক্ত হলেন গ্রামের যুবক বলরাম বিশ্বাস মহাশয় । বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ৩ রা জানুয়ারি , ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে । স্থির হয় প্রথমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ২ ক্লাস জুনিয়র হাই স্কুল রূপে বিদ্যালয় চালু করা হবে । বিদ্যালয়ের পঠন পাঠনের শুভ সূচনার দিন স্থির হয় ৩ রা জানুয়ারি , ১৯৫৬ তারিখ । সেই মতাে এই বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ৩ রা জানুয়ারি , ১৯৫৬ থেকেই । প্রথমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পড়াশুনা চলতে থাকে জুজুড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে । চলতে থাকে বিদ্যালয় গৃহনির্মাণের উদ্যোগ এবং সরকারি অনুমােদন লাভের জন্য চেষ্টা ।
অচিরেই তিনকক্ষ বিশিষ্ট একটি মাটির ঘর নির্মিত হয় । পরে ১-৪-১৯৫৮ তারিখ থেকে জুজুড় ২ ক্লাস জুনিয়র হাই স্কুল রূপে বিদ্যালয়টি অনুমােদন লাভ করে । টেষ্টরিলিফের সাহায্যে কিছু ইট তৈরি করিয়ে সাধারণের চাদা এবং সরকারি অনুদানে পাঁচ কুঠরির একটি পাকা বিদ্যালয় গৃহ তৈরি করা হয় ।
প্রথমে ওজুড় দক্ষিণপাড়ার বিশ্বাস পরিবারের এজমার সম্পত্তি থেকে ০৫ ( পাঁচ ) শতক জায়গা দান হিসাবে পাওয়া যায় , সেখানেই বাড়িটি তৈরি হয় । পরে কিছু জমি দানে , কিছু জমি কিনে বর্তমানে প্রায় ১২ বিঘা জমি বিদ্যালয়ের আছে । সেই জমিতে পরে বিদ্যালয়ের নতুন ঘর , ছাত্রাবাস , খেলার মাঠ প্রভৃতি গড়ে উঠেছে।
১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি উন্নীত হয় ৪ - ক্লাস জুনিয়র হাই স্কুল - এ । শিক্ষক সংখ্যা থেকে বেড়ে হয় ৫ আর একজন করণিকের পদও মঞ্জুর হয় ।
গ্রামের যুবক নিত্যবিলাস সরকার মহাশয় — করণিক পদে নিযুক্ত হন , একই সাথে সহ - শিক্ষক হিসাবে । যােগ দেন শ্রী সনাতন বিশ্বাস আই , এস সি , মহাশয় এবং শ্রী পঞ্চানন বন্দ্যোপাধ্যায় , স্কুল ফাইনাল , গড়ে উঠেছে । ব্যাকরণ ( মধ্য ) মহাশয় ।
বিদ্যালয়ের অগ্রগতি অব্যাহত থাকে । ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে নবম শ্রেণি চালু হয় । ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে দশম শ্রেণিতেপঠন পাঠন শুরু হয় । ১-১-১৯৬৫ তারিখ থেকে জুজুড় হাই স্কুল ১০ ক্লাস হাই স্কুল রূপে চলছে । বাকি আছে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তরণ । পরিদর্শনের কাজে আগেই হয়ে গেছে । এরপর বিদ্যালয় আছে প্রতীক্ষায় আরও পরিণত হবার বাসনায় ।
সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করতে চাই সেই সব গুণীজনের নাম যাঁরা তাঁদের অমূল্য দাক্ষিণ্যে , সহযােগিতায় , উদ্যোগে এই শিক্ষালয় স্থাপন করেছেন , বড় করেছেন , উৎকর্ষ মণ্ডিত করেছেন । তাঁরা হলেন প্রয়াত রাসবিহারী বিশ্বাস , শক্তিপদ বিশ্বাস , চন্দ্রশেখর বিশ্বাস , ধরনীধর গােস্বামী , গােবিন্দপ্রসাদ দত্ত , নিত্যবিলাস সরকার , অশ্বিনীকুমার দত্ত , চারুচন্দ্র রায় , চারুচন্দ্র বিট , বনবিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় , মুক্তারাম বিশ্বাস , সুভাষচন্দ্র রায় , সেখ মফেজ আলি , দেবেন্দ্রনাথ দে , জলধর বিশ্বাস , ভণি বান্দী , শশাঙ্কশেখর বিশ্বাস , যুগল চন্দ্র কুণ্ডু , বলরাম বিশ্বাস , জলধর বাণী , সনাতন নন্দী এবং সর্বশ্রী ধ্রুবনারায়ণ বিশ্বাস , মানিক বিশ্বাস , গগন চন্দ্র গােড় , কমল কুমার দত্ত , সনাতন বিশ্বাস , পঙ্কজকুমার ঘােষ প্রমুখ মহাশয়গণ ।
দাতা হিসাবে ছিলেন রাসবিহারী বিশ্বাস , শ্রী মানিক বিশ্বাস শ্রী সনাতন বিশ্বাস , চারুচন্দ্র রায় , কিরণবালা বিশ্বাস..প্রমুখ মহাশয় | মহাশয়াবৃন্দ ।
ইতােমধ্যে বিদ্যালয়ের করণিক নিত্যবিলাস সরকার মহাশয় কর্মরত অবস্থায় পরলােকগমন করেন । তার স্থলে কাজে যোেগ দেন তারই পুত্র সুব্রত সরকার মহাশয় । শিক্ষাকর্মী বলরাম বিশ্বাস মহাশয় । অবসর গ্রহণ করলে তার পুত্র শান্তিময় বিশ্বাস মহাশয় কাজে যােগ দেন । শিক্ষাকর্মী করুণাময় বিশ্বাস | মহাশয় কর্মরত অবস্থায় পরলােক গমন করেন । তার স্থলে বিদ্যালয়ে যােগ দেন শ্রী নয়ন রঞ্জন ঘােষ মহাশয় ।
এছাড়া বিদ্যালয়ের কর্মী হিসাবে ওতপ্রােতভাবে জড়িয়ে ছিলেন এক দম্পতি ভবতােষ বাউরি ও মৃত অসম বাউরি । যারা বিদ্যালয় ও ছাত্র - ছাত্রীদের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন । তাদের অবদান অনস্বীকার্য । বিগত দিনে যে সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টিকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে । নিয়ে এসেছেন কৃতজ্ঞ চিত্তে তাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই ।।