মহান দার্শনিক অ্যারিস্ট বলেছেন , Education is the creation of sound mind in a sound body . It develops man's faculty , especially his mind so that he may be able to enjoy the comtemplation of supreme truth , goodness and beauty in which per fect happiness essentially consists . এইখানেই আমরা থমকে যাই , পুষ্টিকর খাবার পেলে এবং খেলাধুলা ও যােগব্যায়াম করলে স্বাস্থ্য ভালাে হবে ঠিকই তবে সুস্বাস্থ্যের জন্য সঠিক অভ্যাস পালনের যে সামাজিক অবহেলা তাকে তাে কাটানাে যাচ্ছেনা ! আর সুস্থ মন ? সে আবার কেমন জিনিস ! বড়ােদের অতুলনীয় নীতিবােধের ঘাটতি , সততার অভাব মূল্যবােধের অধঃপতন এককথায় সামাজিক অবক্ষয় শিশুমনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেই চলেছে এবং এর থেকে মুক্তি কীভাবে পাওয়া সম্ভব সেই ভাবনাতে আশঙ্কার মেঘের দাপাদাপি , আলাে নেই , বাতাস নেই অনুকরণ প্রিয় শিশুমন স্বভাবতই বড়ােদের যেসব কাজ রপ্ত করে ফেলছে সেগুলি যে ভালাে তা বলার উপায় কই স্বামীজি , গান্ধীজি , রবীন্দ্রনাথ , রুশাে , ফ্রয়েবেল সহ প্রণম্য সব দার্শনিক - শিক্ষাবিদ মহামানবের শিক্ষার আদর্শ , নীতি , পদ্ধতিগুলি নিয়ে ভাবলে কীভাবে সেগুলি সফল করা যাবে , শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে এইসব মূল্যবান নীতি - পদ্ধতি এবং হতাশালাঞ্ছিত অন্ধকারে কেমনভাবে সেগুলি পালন করবে সে বিষয়েও আলােকবিন্দু দেখতে পাচ্ছি না । বেদনার বিষয় পঠন - পাঠনে উৎসাহী ছাত্র - ছাত্রী কম । কেন ? এই প্রশ্ন করলে হাজারটা উত্তর দেওয়া যাবে । তবে এই যে এত ভালাে ফলের জন্য আমাদের এত গর্ব ! তারা কতজন ? কতটা শিখছে ছেলেমেয়েরা ? শিখতে চাইছে ? সেই তাে পুথিগত বিদ্যার আংশিক গ্রহণ । এখানে বলে রাখা যায় আমার কথাগুলি আমার বিদ্যালয় বা কোনাে একটি বিদ্যালয়ের প্রেক্ষিতে বিচার্য নয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকমশাইদের থেকে আলােচনালব্ধ অভিজ্ঞতা কম বেশি একই । কেউ বলতে চান , কেউ বলতে চান না । পিছিয়ে পড়ারা সেভাবে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে না । অনেকেই যেন কেমন এক আগ্রহহীনতার শিকার । শিক্ষা সংক্রান্ত ক্লাস , আলােচনা , সেমিনারে যেসব স্বপ্নময় নীতিনিয়ম - পদ্ধতির শ্রুতিনন্দন ভাষ্য আমরা পরিবেশন করি সেগুলি স্বপ্ন থেকে বাস্তবে দৃশ্যমান হয় না , তারই গতিনুগতিক জয় ঘােষিত হয় । একটু - আধটু ব্যাতিক্রম ধর্তব্যের মধ্যে আসে না । পরীক্ষা দিলেই পাশ ( no detention policy ) এই নিয়মের রক্ষাকবচ বেঁধে ভালাে চেয়ে মন্দই বেশি হয়েছে এটা বলা যায় । ভুক্তভােগীরা জানেন , নামসই করাতেই অস্থির ! টুকলি বা নােটের বাড়বাড়ন্ত চলছেই , অভিনব তার প্রকার প্রকৃতি । সখেদে বলি , এই কু কাজে যে সময় তারা দেয় এবং যে বুদ্ধি ব্যয় এর জন্য করতে হয় সে সময়টাতে পড়াশােনা করলে পাশ অনিবার্য । নিয়ম - দক্ষতা , মুক্ত মন , ঔদার্য , পাণ্ডিত্য , আধুনিকতা সবার সমান হতে পারে , বিশ্বমানের নাও হতে পারে , কিন্তু নিজের যেটুকু আছে সেটা দিতে আমাদের শিক্ষক শিক্ষিকাদের কার্পণ্য নেই একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি । শ্রেণিকক্ষের ভিতরে যারা নিজেদের উজাড় করে দেন , বিভিন্ন ফর্ম পূরণ সংক্রান্ত কাজে তারা আন্তরিক , ছাত্র - ছাত্রীদের প্রতি তাদের স্নেহ - ভালােবাসার কোনাে ঘাটতি দেখিনা । মনখােলা পরিবেশে কাজ করছে আমাদের অফিস মানে প্রধান শিক্ষক , সহ প্রধান শিক্ষক , করণিকদ্বয় , চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদ্বয় এবং গ্রন্থাগারিক । একটি যৌথপরিবারের প্রায় সব গুণেই আমরা অন্বিতা । পরিচালন সমিতি সবসময় পাশে আছে । সমস্ত রকম শ্রী , সাথি , মিড - ডে মিল , বৃত্তি , ওষুধপত্র খাওয়ানাে , ভােটার লিস্টের কাজ , সাংস্কৃতিক নানাবিধ কাজ , খেলাধূলা , আধারকার্ডের হিসাব .. .... ইত্যাদি হাজারাে কাজে নাজেহাল হয়ে যাই .... বিরক্ত হই ..... রেগে যাই ..... আবার হাসতে হাসতে আমরা কাজ করি , কাজ করতে থাকি । চলিষ্ণুতা জীবণের ধর্ম , স্থবিরতা মৃত্যুর লক্ষণ তাই জীবন চলুক চলতেই থাকুক । কী বিদ্যায় কী মনে বা মননে উত্তরণের পথে জুজুড় উচ্চ বিদ্যালয় চলুক , চলতেই থাকুক ।