
হাওড়া জেলার অন্তর্গত দক্ষিণ সাঁকরাইলের পূর্বপাড়া গ্রামটি বহু প্রচেষ্টায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পেল।সবুজ প্রকৃতি,সুন্দর পরিবেশ,গঙ্গার ধার_সব মিলিয়ে একটা সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোনো জমি নেই।তাহলে বিদ্যালয় টি কি প্রতিষ্ঠা পাবে না? গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে?_ এইসব প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।কারণ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না পেলে শিক্ষায় এ গ্রাম পিছিয়ে পড়বে অনেক টা।সেই সময় বিদ্যালয়ের জন্য নিযুক্ত হলেন শ্যামপুর নিবাসী শিক্ষিকা গায়ত্রী সাঁতরা ।ছোট খাটো চেহারার কম বয়সী এই শিক্ষিকা নেবে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব _ তা নিয়েও জল্পনা কল্পনার শেষ নেই গ্রামবাসীদের মধ্যে।যাইহোক অবশেষে দক্ষিণ সাঁকরাইলের পূর্বপাড়া পেলো বিদ্যালয়,পেলো বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা_এবার জোগাড় করতে হবে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জমি ।
গঙ্গার ধারে একটি ভাঙ্গা বাড়িতে ৫-৬জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হলো পঠন পাঠন।পরবর্তী কালে ওই গ্রামের সিরাজ মিদ্দে তাঁর বাবার নাম এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সাড়ে তিন কাঠা জমি দান করেন।একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে প্রথমে একতলা,পরে দোতলা বিল্ডিং এ পরিণত হয়।বিদ্যালয়ের ভেতরে পানীয় জলের নলকূপ ছাড়া আর জায়গা নেই....শিশুদের খেলাধুলার জন্য।মিড ডে মিলের জন্য আলাদা কক্ষ আছে,আছে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকা দের জন্য আলাদা বাথরুম ।এমনকি সকাল বেলা অঙ্গণ ওয়াড়ি ও চলতে থাকে এখানে।
বিদ্যালয়টি ভাঙ্গা আটচালা ঘর থেকে বিদ্যালয় রূপে প্রতিষ্ঠা পেলো ১৯৮১ সালের১৯ শে মার্চ।সেই সময় সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে গায়ত্রী দিদিমণির অবদান অনস্বীকার্য।বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রছাত্রী সংগ্রহ করা এবং তাদের সন্তান স্নেহে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করার কৃতিত্ব একমাত্র তাঁর।তবে এসব সম্ভম হয়েছে গ্রামের মানুষের অশেষ সহযোগিতায়।