শ্রীমা সারদা বিদ্যাপীঠ জি.এস.এফ.পি. স্কুলের উত্তরণের ইতিহাসের প্রথম স্তরটি ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। পশ্চিম বেহালার অন্তর্গত আর্কেডিয়া অঞ্চলের কতিপয় বিদ্যানুরাগীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও রামকৃষ্ণ আশ্রমের পরিচালনায় ১৯৫৭ সালের ২রা জানুয়ারী এই বিদ্যালয়টির শুরু হয়েছিল পথ চলা। গুটি কয়েক শিশুকে নিয়ে দু-একজন শিক্ষক-শিক্ষিকার নিরলস প্রচেষ্টায় তা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়, আর ১৯৫৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন লাভ করে। ১৯৬৪ সালে বড়িষা উন্নয়ন সংসদ, পশ্চিম বড়িষা গভর্মেন্ট স্কিম নং - IV -এর সদস্যদের আন্তরিক ও অক্লান্ত উদ্যোগে রজনী ব্যানার্জী রোডবাসী শরনার্থী শিশুদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়। বিদ্যালয় স্থাপন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শরনার্থী পুনর্বাসন দপ্তর শ্রীমা সারদা বিদ্যাপীঠের স্কুল কমিটি এবং বড়িষা উন্নয়ন সংসদের পরিচালন সমিতিকে ২১৪৯.৬২ টাকার বিনিময়ে কমবেশী তিন কাঠা জমি হস্তান্তর করে। তৎকালীন বড়িষা উন্নয়ন সংসদের পরিচালন সমিতির সভাপতি ডক্টর সন্তোষ কুমার দাস, সহ-সভাপতি ও হিসাব-রক্ষক শ্রী কানাইলাল মুখার্জী, সম্পাদক শ্রী রমেশ চন্দ্র চক্রবর্তী প্রমুখ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধানে এবং ভট্টাচার্য্যপাড়া নিবাসী শ্রী ভোলা সেন মহাশয় কর্তৃক প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও শ্রম দানের মাধ্যমে বিদ্যালয় গৃহ নির্মিত হয়। শ্রী কাশীশ্বর মিস্ত্রী মহাশয় প্রথম প্রধান শিক্ষকের আসন অলঙ্কৃত করেন। ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারী অনুদানে বর্তমান বিদ্যালয় ভবনের শিলান্যাস ও শুভারম্ভ হয় এবং ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত সরকারী অনুদানে তা সম্পূর্ণতা লাভ করে। ২০০৬ সালে প্রাপ্ত সরকারী সাহায্যে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মিত হয়।