History

আমাদের বিদ্যালয়ঃআমাদের গর্বঃকিছু কথা

একদিকে প্রতিবেশী রাজ্য অসম,অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ ভুটান -র সীমান্ত ঘেরা পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলা আলিপুরদুয়ার।এই আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত আলিপুরদুয়ার ২ নং ব্লকের একটি ছোট জনপদ উত্তর শিবকাটা।জয়ন্তী ও গদাধর নদীর দোয়াবে অবস্থিত উত্তর শিবকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও মনোগ্রাহী।একদিকে শ্রীনাথপুর চা বাগিচা অপর পাশে নাতিউচ্চ বক্সা জয়ন্তী পাহাড়;সব মিলে মিশে এক মনোমুগ্ধকর ভৌগোলিক অবস্থান বলা যেতেই পারে।জেলা সদর থেকে ১৭ কি.মি -র ব্যাসার্ধের  কিছু বেশি পথ অতিক্রম করে পৌঁছে যাওয়া যাবে এই  দুর্গম জনপদে।এই জনপদের অধিবাসী দের শিক্ষার সুযোগ দিতে সরকারি সৌজন্যে গড়ে ওঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়।সমস্যা কিছুটা লাঘব হলেও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থী দের।প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে একজন শিক্ষার্থী কে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হলে তাকে পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ ৩.৫ কি.মি পথ। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা,পাথুরে রাস্তা,নির্জন চা বাগিচার বিপদ সঙ্কুল বীথী,বুনো দের অতর্কিত হানা;সব মিলিয়ে এক বুক চাপা ভীতি ছিল শিক্ষার্থী দের নিত্য সঙ্গী।অতঃপর সরকারি সৌজন্যে ও সহায়তায় গড়ে ওঠে একটি জুনিয়র হাই স্কুল।নামকরণ হল উত্তর শিবকাটা জুনিঃ হাই স্কুল।অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু হল পথ চলা।সাল টা ২০০৯।সমস্যার সমাধান হল।এরপর শিক্ষক নিয়োগ ২০১১ সালে।৮৭ জন প্রথম প্রজন্মের  শিক্ষার্থী নিয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে যাত্রা শুরু।ছিলনা অনেক কিছুই।শ্রেণিকক্ষ,কৃষ্ণফলক,চেয়ার,টেবিল,বেঞ্চ না থাকা সত্ত্বেও শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সন্মিলিত উদ্যম, প্রচেষ্টা,সহযোগিতা, সদ্বিবেচনা,কৃতজ্ঞতা,ও অন্তরাত্মার ডাক কে পাথেয় করে এগিয়ে চলা।চরৈবেতি!চরৈবেতি!কেবল চলার সাড়া বিশ্বব্যাপী। ধীরে ধীরে অনেক চাহিদায় পূর্ণতা প্রাপ্তির পথে।আশ্চর্য নয় যে, বিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা - পরিকল্পনায় বাধাঁ জুটবে।বরং আশ্চর্য এই যে, বিদ্যালয়ের কর্মনীতির সমর্থকও ছিল---আর তাঁরা আক্কাস আলি সরকার,মহম্মদ ইকবাল,পীযুশ সরকার  ; আপনাদের নিকট আমরা ঋণী,আমরা কৃতজ্ঞ।আমাদের বিনম্র নমস্কার গ্রহণ করবেন। আরও ভাল প্রতিষ্ঠা পাওযার আশায় উত্তর শিবকাটা জুনিঃ হাই স্কুল অপেক্ষারত।