১. স্বাধীনতার পর রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কতিপয় স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষের ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯৬০ সালে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেনির যে স্কুলের পথ চলা শুরু হয় ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে তা অষ্টম শ্রেণি, ১৯৮৪ খ্রীষ্টাব্দে মাধ্যমিক এবং ২০১১ খ্রীষ্টাব্দে স্কুলে পরিনত হয় | অর্থাৎ বর্তমান বছরে স্কুলের ৬০ বছর পূর্ণ হল |
(২) বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকেই তার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি , সম্পাদক, প্রধান শিক্ষক ও সহ শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্য |
(৩) বিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আজ দেশবিদেশে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠিত । ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য উজ্জ্বল।
(৪) কিন্তু বিদ্যালয়ের সাফল্যের পথে বাধাও কম নয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদের সব শিক্ষক নেই। গত কয়েক বছর অবসর ও বদলির জন্য বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকপদ শূন্য হলেও কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। এভিন্ন উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও বহু শিক্ষক পদ খালি। একজন লাইব্রেরীয়ানও প্রয়োজন । বিদ্যালয়ের যথেষ্ট পরিমান খালি জায়গা ও খেলার মাঠের অভাব আছে | জায়গার অভাবে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মান করা সম্ভব হচ্ছে না |
(৫) শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতি আকৃষ্ট করতে ও তাদের জ্ঞানের প্রসারে লাইব্রেরীর ভূমিকা অপরিসীম। লাইব্রেরী একটি বিদ্যালয়ের সমৃদ্ধির পরিচয়ক। বর্তমানে বিদ্যালয়ে একটি ভালো লাইব্রেরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে |
(৬) বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের এবং প্রথম প্রজন্মের। ফলে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক কম। শিক্ষক ও অভিভাবক সভায় অভিভাবকদেরও এবিষয়ে অনুপ্রাণিত করা হয়।
(৭) বিশ্বে আজ প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটে গেছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে মহামারীতে গৃহবন্দী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের পাঠদান করে চলেছেন। এই অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে অবলম্বন করে আমরা বিদ্যালয়ে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য বিদ্যালয়ে একটি স্মার্ট ক্লাসরুম প্রস্তুত করা হয়েছে |
(৮) সর্বোপরি, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন এবং শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা ও সুস্বাস্থের অধিকারী করে তোলা। এজন্য বিদ্যালয়ে মূল্যবোধের শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ জীবনে তারা আদর্শ নাগরিক হয়ে উঠুক, বিদ্যালয়ের পক্ষে এটাই কামনা করি।