মালাডাং শেওড়াকুড়ি বংশীধর উচ্চ বিদ্যালয় (উঃ মাঃ)। মহঃবাজার ব্লকের একটি অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্য বাহী বিদ্যালয়। বর্তমান এই বৃহৎ কলেবরের বিদ্যালয়টির স্থাপনা হয়েছিল স্বপ্নদ্রষ্টা কয়েকজন দূরদর্শী মানুষের চেষ্টায়। তাঁদের মধ্যে যে দুই জন মানুষ প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন, তারা হলেন ঁবাগালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ঁনিতাইপদ ঘোষ মহাশয়।এই বিদ্যালয় পথ চলা শুরু করে ছিল ১৯৫৪-৫৫সালে শেওড়াকুড়ি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গন এর আটচালা থেকে।যার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন ঁশ্রীযুক্ত বাগালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। কিন্তু দূরদর্শী শ্রী চট্টোপাধ্যায় এর চরম ইচ্ছা ছিল এই বিদ্যালয় এর শ্রীবৃদ্ধি। সুযোগ এসে পড়ে। কোনো এক শুভক্ষণে তৎকালীন শিল্পপতি এবং শিক্ষানুরাগী শ্রীযুক্ত নিতাইপদ ঘোষ মহাশয় আসেন শেওড়াকুড়ি গ্ৰামে তার প্রিয় বন্ধু ঁশ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয় এর কাছে। শ্রী যুক্ত বাগালচন্দ্র মহাশয়, তার ভাতৃপ্রতিম নিতাই বাবুর কাছে অনুরোধ করেন, এলাকার শিক্ষার উদ্দেশ্যে জায়গা সহ বিদ্যালয় ভবন তৈরি করে দিতে হবে তাঁকে। শ্রদ্ধেয় অগ্ৰজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন নি নিতাইবাবু। তিনি জায়গা দান করেন (বর্তমান স্থানটি)।
বিদ্যালয় তৈরি র সমস্ত অর্থ ও দেন তিনি। এরপর সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শ্রীযুক্ত বাগালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়।মাটির দেওয়াল এ টিনের চাল দিয়ে তৈরি হয় চারটি বিদ্যালয় ভবন।পাকা রাস্তার ধারে খাটিয়া নিয়ে বসে সকাল থেকে সন্ধ্যা সমস্ত কাজের তত্ত্বাবধান করতেন শ্রীযুক্ত বাগালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। এলাকার বহু মানুষ শ্রমদান করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টির জন্য। অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই বিদ্যালয় তৈরি সম্পুর্ন করলেও উদ্বোধন করে যেতে পারেন নি এই মহান শিক্ষা ব্রতী, শ্রীযুক্ত বাগালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়।ডাক এসে যায় পরপারের। তাই বাকী দায়িত্ব নিজে নেন নিতাই বাবু । সাথে ছিলেন পরম বন্ধু শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। উদ্বোধন হয় বিদ্যালয় এর। নিতাই বাবুর পিতা বংশীধর এর নামে হয় উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাতা যুগোল কিশোরী র নামে হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় টি।এই বিদ্যালয় এর শুরু থেকেই প্রধান শিক্ষক এর দ্বায়িত্বে ছিলেন শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। সহকারী শিক্ষক ছিলেন শ্রীযুক্ত দিনবন্ধু ব্যানাজী মহাশয়।
শ্রীশিবরাম মণ্ডল মহাশয় ১৯৫৫ সালে শিক্ষকতায় নিযুক্তহন।১৯৫৯ সালে অষ্টমশ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয় সরকারী অনুমোদন পায় তখন্প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান শ্রীশিবরাম মণ্ডল মহাশয়।পরে সহ শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন শ্রীযুক্ত গুরুপদ হাজরা, শ্রীযুক্ত বীরেন দাস প্রমুখ।বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সম্পাদক হন শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ কিঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয়।এই বিদ্যালয় স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শ্রীযুক্ত ভোলানাথ ভট্টাচার্য ও শ্রীযুক্ত কালি কিঙ্কর মন্ডল (মালাডাং), শ্রীযুক্ত বাগালচন্দ্র সাহা(বোদমাটি), শ্রীযুক্ত অনুকূল সাহা(চরিচা), শ্রীযুক্ত তারাকিঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয় প্রভৃতি জনেদের। এছাড়াও আরো অনেক মহান প্রাণ এই বিদ্যালয় স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। স্থানাভাবে তাদের নাম লেখা গেল না। এলাকার প্রথম ছাত্র হিসেবে যাদের নাম জানা যায় তাদের মধ্যে দুই জন হলেন শ্রীযুক্ত প্রভাকর আচার্য এবং শ্রীযুক্ত সুখদা কিঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয়। এদের মধ্যে শ্রী চট্টোপাধ্যায় মহাশয় পরবর্তী কালে এই বিদ্যালয় এর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০১সালের জানুয়ারি মাসে অবসর গ্ৰহণ করেন।