১৮৫৪ সালে চার্লস্ উডের প্রতিবেদন বা শিক্ষা বিষয়ক প্রস্তাব ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনে একটা যুগান্তকারী ফল। ইতিমধ্যেই সরকারী উদ্যোগে এবং মিশনারীদের উদ্যোগে টাকী ও বাদুড়িয়ায় ইংরাজী শিক্ষার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত উদারমনা কয়েকজন যুবক তখন বসুরহাটেও (বসিরহাট) একটা ইংরাজী বিদ্যালয় স্থাপনে সচেষ্ট। এদের মধ্যে প্রধান উদ্যোক্তা আড়বেলিয়া নিবাসী বাবু রামতারণ মিত্র। মূলত তাঁরই উদ্যোগে ১৮৫৪ সালে সর্বপ্রথম সংগ্রামপুরের দত্তদের জমিতে নীল কুঠির দক্ষিণ দিকে স্থাপিত হল একটা মাইনর স্কুল।
এরপর ১৮৬০ -এর দশকে তদানীন্তন ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট বাবু ঈশান চন্দ্র মিত্র মহাশয়ের উদ্যোগে এই স্কুলটি মিড্ল্ ইংলিশ স্কুল বা বসুরহাট M.E. School -এ উন্নীত হয়।
আরও পরে ১৮৭০ -এর দশকের ১ম ভাগে বাবু রামতারণ মিত্র মহাশয়ের প্রচেষ্টা ও উৎসাহে তদানীন্তন বসুরহাটের ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট বাবু সীতাকান্ত মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের সুপারিশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় বসুরহাট পৌরসভা বিদ্যালয়টির আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করে - তখন থেকে বিদ্যালয়ের নাম হয় বসুরহাট মিউনিসিপ্যাল স্কুল।
অবশেষে নিরন্তর প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে ১৮৭৭ সালের ২৪শে জানুয়ারী বিদ্যালয়টি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে -নাম হয় বসিরহাট হাইস্কুল। প্রথম প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন শ্রী যজ্ঞেশ্বর মন্ডল।