।। সেকেন্দ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ।।
সাল'টা ১৯৬২। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের কৈশোরে বাইরের আঘাত এল। যে সাবালক হবার কথা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে, সেই স্বাভাবিকত্ব যেন অর্জনের অতিরিক্ত চাহিদায় গা-ঝেড়ে উঠছে--- শিক্ষাজগতেও এর গা-ঝাড়া বাতাস এসে লাগল। গঙ্গা-পদ্মা'র আড়াআড়ি হ'য়ে যাওয়ার সঙ্গমস্থলে একটা সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরা(বাংলাদেশ-) সীমান্তবর্তী এলাকার হতদরিদ্র, পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্যে তাদের মধ্য থেকেই কিছু শিক্ষিত যুবক তৈরি ক'রলেন "সংগঠিত বিদ্যালয়(organize School)।
সে দিনের সেই বিদ্যোৎসাহী ও ভাগ্যান্বেষণের খোঁজে চলা ব্যক্তিদের একজন শ্রী জিতেন্দ্রনাথ মিত্র; বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধানশিক্ষক। শিক্ষক, স্টাফ এবং এলাকার সমস্ত বিদ্যোৎসাহী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি, যার ফলশ্রুতি আজকের এই বটবৃক্ষ-স্বরূপ বিদ্যালয়। এরপর প্রধানশিক্ষক হ'ন শ্রী বিমলেন্দু দাস মহাশয়। ভারপ্রাপ্ত হ'য়ে দায়ভার সামলান শ্রী গোপাল চন্দ্র দাস মহাশয় ও শ্রী সুকুমার সিনহা মহাশয়। এরপর শ্রী তাপস কুমার রায় মহাশয় প্রধানশিক্ষক রূপে দায়িত্বভার নেন; তাঁর অবসরের পর আবু বকর আল আনিসুজ্জামান মহাশয়, মহঃ আলমগীর আলম মহাশয় এবং পুনর্বার ঐ আনিসুজ্জামান মহোদয় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; আর ১৭ /০৯/২০১৯ তাং থেকে প্রধানশিক্ষক হিসেবে আমি সুজিত কুমার দাস দায়িত্ব পালন ক'রে চলেছি।
সৌভাগ্যবশত: আমি এ' বিদ্যালয়ের অতীতের ছাত্রও! এ' বিদ্যালয়কে হাতে ক'রে গ'ড়েছেন ভূতপূর্ব প্রধানশিক্ষক বিমলেন্দু দাস মহোদয়; সাক্ষাৎ ছাত্র-শিষ্য হিসেবে আমিও তাঁর হাতে গড়া মনে করি!
আমার হেডস্যর'কে দেখতাম সবসময় স্কুলের উন্নতির জন্য গঠনমূলক কাজে ব্যাপৃত থাকতেন, আমারও চিন্তাভাবনার অগ্রাধিকারে আছে এবং থাকবে বিদ্যালয়ের স্বল্পমেয়াদি তথা দীর্ঘমেয়াদি সর্বাঙ্গীণ উন্নতিসাধন। যেমন--- শিক্ষা'কে সর্বাধিক গুরুত্ব দে'য়া; শিক্ষাব্রতী পড়ুয়া-শিক্ষক সম্পর্ক যেন উৎকর্ষতার অনুকূলে সার্থক হয়; শিক্ষা যেন প্রকৃতির মধ্য দিয়ে পড়ুয়াদের মনঃপ্রকৃতি'তে মূর্ত হয় সেজন্যে গাছপালা লাগিয়ে, ফুলে-ফলে ভ'রে এ' বিদ্যালয় যেন প্রকৃতির পাঠশালা তথা প্রাকৃতিক পাঠশালা হ'য়ে ওঠে!...
বিদ্যালয়ে ... জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ... জন শিক্ষাকর্মী'বন্ধু এবং বিদ্যালয়-সমর্পিত অন্যান্য অস্থায়ী কর্মী ... জন। সকলেই নিজের নিজের বিষয়ে যথেষ্ট ব্যুৎপন্ন এবং কাজে সমর্পিত-প্রাণ।
আজ আমাদের স্কুল ব্লক, মহকুমা, জেলা, এমনকি রাজ্যস্তর থেকে সঙ্গীত, আবৃত্তি, বিতর্ক, Youth Parliamentary Competition--- এ'সবে পুরস্কার ছিনিয়ে আনছে। ছাত্র-ছাত্রী'দের মধ্যে খেলাধূলা'র প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, খেলাধূলা'য় সার্বিক উন্নতিও হ'য়েছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা গুণগত মানে এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে। বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত মনোজ্ঞ পরিবেশে ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আর সর্বোপরি শিক্ষার মান বিশেষতঃ রেজাল্ট--- সামগ্রিক বিচারে ভালো। আমাদের লক্ষ্য, এই ফলাফল'কে সর্বাঙ্গীনভাবে আরো উন্নত করা।
১৯৬২-র একচালা টালির সেই স্কুল ১৯৮৭-তে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হ'ল, ২০০২-'০৩-এ উচ্চ-মাধ্যমিক স্তর(কলা বিভাগ)-এ, আর ২০১২-তে উচ্চ-মাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হ'ল। বিজ্ঞান বিভাগের এবং ভূগোলের ল্যাবরেটরি পর্ষদের মাপকাঠি অনুযায়ী উন্নত মানের।
আমাদের ভূগোল অজানিত, আমাদের ইতিহাস বিশেষত্বহীন, আমাদের অর্থ নিরর্থকতার বালাই কিন্তু আমাদের বর্তমান স্বপ্নে রঙিন, হৃদয়ে আবেগি, কর্মে অন্-আবেগি আর প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়! যে বিশেষণ শিক্ষার মানদন্ড'কে বিশেষিত করে, আবহমানকাল ধ'রে আমরা সেই বাক্য-বন্ধে বিশেষ্য পদবাচ্য হবই--- এর অবশ্যম্ভাবিতা আমরা উপলব্ধি ক'রি আর তার সাক্ষী অদূর ভবিষ্যৎ...!
"প্রাচুর্য্যের আকাশ-তলে কারো থাকে প্রাতিষ্ঠানিকতা
আমাদের প্রতিষ্ঠান মাটি থেকে আকাশের কথা...---
জৌলুসহীন তবু প্রাণে অফুরান ভালোবাসা;
বস্তু-জগতে দীন, অন্তর-জগতে মুক্তো ঠাসা!
অপ্রতুল আয়োজন। আমরা জানি, প্রতিষ্ঠানও জানে,---
পারস্পরিকতা দিয়ে ভরাই তা' হৃদয়ের টানে!...
মাটি'তে দাঁড়িয়ে; স্বপ্নে আকাশ'টা অন্ত:সলিলা...
সাক্ষী থাক্ প্রতিষ্ঠান। আকাশ'টা ছুঁতেই এই চলা!..."