
ডুয়ার্সের এলাকার আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের ভারত-ভুটান এবং অসম-বাংলা সীমান্তে একটি বধিষ্ণু গ্রাম বারবিশা । ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং নানান জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা অর্থাৎ বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য-ই এই এলাকার বৈশিষ্ট্য । এমনই এক মিলন ক্ষেত্রে ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়েছিল বারবিশা বালিকা বিদ্যালয় । আগামি বছ্র যার উদযাপিত হবে সুবুর্ণ জয়ন্তি বর্ষ । বর্তমানে দক্ষিণ রামপুর মৌজায় ৩১নং জাতীয় সড়কের পশ্চিম দিকে এই বিদ্যালয়টি অবস্থিত । বাঁশ, কাঠ ও দরমার বেড়া দেওয়া সেই বিদ্যালয় ভবন দ্বিতল বিশিষ্ট পাকা বিল্ডিং রুপে স্বগর্বে মাথা ঊচু করে দাঁড়িয়ে আছে । চারিদিক কংক্রিটের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা এই বিদ্যালয় ভবনটির দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে । একটি সামনে ও একটি পেছনে । জরুরী প্রয়োজনে যাতে শিক্ষিকা-ছাত্রী সহ সকলেই নিরাপদে বাইরে বেড়িয়ে আসতে পারে তার জন্য দুটি প্রবেশদ্বার রাখা হয়েছে । সম্পুর্ণ আধুনিক সুবিধাযুক্ত এই বিদ্যালয় ভবনে C.C. ক্যামেরা, wifi ইন্টারনেট, ভেণ্ডিং মেশিন, Water Purifier System পর্যাপ্ত আলো, পাখা, জল সবই রয়েছে । প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের সামনে বড় বারান্দা রয়েছে এবং টব সহ ফুলের গাছ, মাটিতে নানা ধরনের ফুলের গাছ বিদ্যালয়ের শোভা বর্ধন করেছে । বিদ্যালয়ের ছাত্রীরাই ঐ গাছগুলি যত্ন নেয় ও পরিচর্যা করে । এছাড়া রয়েছে পেঁপে, নিম, পেয়ারা আরও হরেক রকম গাছ যা বিদ্যালয় চত্তরকে সতেজ ও সবুজ করে রেখেছে । তিনটি ব্লক নিয়ে এই বিদ্যালয় ভবনটি গড়ে উঠেছে । পশ্চিমে মাতঙ্গিনী ভবন, উত্তরে নিবেদিতা ভবন, দক্ষিণে রয়েছে সরোজিনি ভবন । মাতঙ্গিনী ভবনে প্রধান শিক্ষিকা, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা, সহকারী শিক্ষিকাগনের কক্ষ । রয়েছে বিদ্যালয়ের অফিস ঘর এবং ছোট্ট একটি মুক্ত মঞ্চ । বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এই মুক্ত মঞ্চেই হয়ে থাকে । অন্য দুই ব্লকে বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষ, কম্পিউটার রুম, আই টি রুম, রিটেলার রুম, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি –এগুলি রয়েছে । শ্রেণী কক্ষগুলি যথেষ্ট বড় ও হওয়াদায়ক (airy) । সব শ্রেণী কক্ষগুলি বিভিন্ন মুনিঋষি, বিজ্ঞানি ও প্রাতঃ স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের ফটো দিয়ে সাজানো রয়েছে এবং ওনাদের ঊদ্দ্রিতি লেখা রয়েছে । সকালে ১০-৪০ মিনিটে Uniform পড়া ছাত্রী ও শিক্ষিকাগণের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে সাথে প্রভাতি সঙ্গীত ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান পর্ব শুরু হয় । দুপুর ১-৩৫ মিঃ মধ্যাহ্ন ভোজন শুরু হয় । মেয়েরা সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে মিড-ডে-মিল গ্রহন করে । বিকালে ৪-২০ মিঃ অষ্টম পিরিয়ড হয়ে বিদ্যালয় পাঠদান পর্ব শেষ হয় । বিদ্যালয়ের শিখিকাগণ খুবই যত্ন সহকারে ছাত্রীদের পাঠদান করেন। ছাত্রীদের নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করেন । ছাত্রীরাও শিক্ষিকাগণকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে । বিদ্যালয় চত্তরের কমন প্লেসে একটি বড় নোটীশ বোর্ড রয়েছে । সেখানে একটি অভিযোগ বাক্স রয়েছে । সারা বছর বিভিন্ন উদযাপন দিবসে প্রচুর ছাত্রীরা Uniform পড়ে অংশ গ্রহন করে । বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযগিতামুলক অনুষ্ঠান এবং খেলাধুলাতেও বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যথেষ্ট কৃতিত্ব অর্জন করেছে । ২০১৪ সালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা পরায়নতার জন্য পুরষ্কার পেয়েছে । সরস্বতী পুজাতে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা মনপ্রান খুলে আনন্দ করে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পূজাতে অংশ নেয় । প্রতিবছরই ছাত্রীরা ও শিক্ষিকাগণের লেখা নিয়ে ‘চেতনা” নামে দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয় । সবশেষে বলা যায় এলাকার আপামর জনগন, অভিভাবক, অভিভাবিকা, ছাত্রীবৃন্দ, শিক্ষিকাগণের কাছে এই বিদ্যালয় একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান ।