


শ্যামসুন্দরপুর হাই স্কুল, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চন্ডীপুর ব্লকের শ্যমসুন্দরপুর ও জামবাড়ি এই দুটি গ্রামের অংশে অবস্থিত। এটির স্থাপনাকাল ১৯৬২ সাল। স্থানীয় মিশ্র পরিবার, যাঁরা একসময় জমিদার ছিলেন, তাঁদেরই বদান্যতায় তাঁদেরই এক বৃহৎ পুকুরপাড়ে প্রথমে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তারও অনেক পরে এটি স্থাপিত হয়। প্রথমে ১৯৬২ তে দুটি ক্লাস নিয়ে এটি চালু হয়। অনুমোদন মেলে ১৯৬৪ সালে। এরপর ১৯৬৬ সালে আবার দুটি শ্রেণি অর্থাৎ ৭ম ও ৮ম চালু হয়। এরপর বিদ্যালয় চলতে থাকে তার আপন গতিতে। একসময় এর সুনাম বিশেষভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ৬ষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণিতে সরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় এর সাফল্য একে উজ্জ্বল করে তোলে। কিন্তু সবসময় প্রবাহ সমান থাকে না। ১৯৯০ সাল থেকে কিছু আভ্যন্তরীন অবাঞ্ছিত কিছু কারণে বিদ্যালয়ের সেই গৌরব হারাতে শুরু করে। মামলা-মোকদ্দমা থেকে শুরু করে নানারূপ বিশৃঙ্খলায় একসময় এর অস্তিত্ব বিপন্ন হবার মত অবস্থা হয়। বহু লড়াই করে এলাকার শুভানুধ্যায়ীদের প্রচেষ্টায় তৎকালীন শিক্ষককুল একে ধরে রাখে। ১৭ বছর বিদ্যালয়ে কোন প্রধান শিক্ষক বা পরিচালন সমিতি ছিল না। প্রশাসকের দ্বারা , একের পর এক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ এর দায়িত্ব সামলাতে থাকেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ২০০৭ সালে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। ২০০৯ সালে এটি মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। একই সময়ে একাধিক তরুণ শিক্ষকের নিযুক্তি, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ, পরিচালন সমিতি, অভিভাবকগণ, স্থানীয় ৬/৭টি গ্রামের গ্রামবাসীগণ.....সবাই মিলে বিদ্যালয়টিকে স্বমহিমায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। সরকারি বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা আসতে থাকে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ মাটির বাড়ি সরিয়ে গড়ে উঠতে থাকে পাকা বিল্ডিং। ২০১২ সালে এর সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে। এটি নিছকই অনুষ্ঠান ছিল না, ছিল বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক মিলিত শপথানুষ্ঠান। যোগ দিলেন সংশ্লিষ্ট সবাই। সেই ঐক্যবদ্ধ শপথের ফলশ্রুতি হিসাবে আজ বিদ্যালয়টি শিক্ষা মানচিত্রে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে, বাড়ছে। পরীক্ষার ফলাফল আশাপ্রদ। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা শুধু ব্লক বা জেলা নয়, রাজ্যস্তরীয় নানা প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়কে সাহায্য করার পাশাপাশি এর কাজকর্মে তাঁদের সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন।
বিদ্যালয় এক প্রবাহ। এই প্রবাহের কোন শেষ এই। তাই আত্মতুষ্টিরো কোন জায়গা নেই। যতদিন দায়িত্ব পালনে ব্রতী রয়েছি আমরা, সেটাই মন প্রাণ দিয়ে করে যেতে হবে আমাদের - এই বিশ্বাসেই আমরা বিদ্যালয় পরিবারের সবাই কাজ করে চলেছি। সাথে রয়েছেন বৃহত্তর সমাজ পরিবারের সকলে। এই বিশ্বাসেই আমাদের এগিয়া চলা। চরৈবেতি........চরৈবেতি। নমস্কার ।