From the Head Of Institution Desk

আমি সন্দীপ কুমার দাস, এই বিদ্যালয়ে 28/01/2010 তারিখে যোগদান করি এবং 01/12/2012 তারিখে Teacher in Charge এর দায়িত্ব গ্রহণ করি।

স্কুলের নামের সাথে সাঁওতাল পাড়া কথাটা যুক্ত থাকলেও এই স্কুলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ছাত্র ছাত্রীরা পঠন পাঠন করে।

স্কুলটি বাস লরি চলাচল করা রাস্তার ওপর অবস্থিত। স্কুলের তিন দিক ধানের জমিতে ঘেড়া  বিস্তীর্ণ ফাঁকা এলাকা জুড়ে একটা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। তবে স্কুলটি খুবই ছোট হওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের সারিবদ্ধ ভাবে ব্যায়াম করাতে বেশ সমস্যা হয়। 

বিদ্যালয় 2013 সালে "নির্মল বিদ্যালয় পুরস্কার " এবং 2018 সালে "Best School in TLM Use & Innovation" এর নিরিখে মহকুমায় প্রথম স্থান অধিকার করে। 

এলাকাবাসীগন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা দের যথেষ্ট সম্মান করেন এবং স্কুলের প্রতি আন্তরিক। এলাকার বেশির ভাগ মানুষ ই খুব গরীব। অভাবের তাড়নায় অধিকাংশ ছেলে মেয়েরাই 13 - 14 বছর বয়সে বিভিন্ন রকম দিনমজুরের বা শ্রমিক বৃত্তি কাজে নিযুক্ত হয়ে পড়ে। আবার 14 - 15 বছর বয়সে অনেক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কিছুটা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। সাপে কামড়ানো রোগীকে এখনো ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। 

গত কয়েক বছর ধরে ছাত্র ছাত্রীদের অনেকটা কুসংস্কারের  বিরুদ্ধে মানসিক ভাবে দৃঢ করা সম্ভব হয়েছে। তারাও তাদের বাড়ির বয়স্কদের কুসংস্কার মুক্ত করার প্রচেষ্টা করছে। মাঠে ঘাটে মল ত্যাগ করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। 

মাননীয় মহকুমা শাসক, বিডিও সাহেব, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, চাইল্ড লাইন কাটোয়া, কাটোয়া জি আর পি, পঞ্চায়েত প্রধান প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রায়ই অভিভাবক দের নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরো বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। 

বিভিন্ন স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা স্কুলের উন্নতি কল্পে সহযোগিতা করে চলেছে। স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা গুলোর পক্ষ থেকে স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি স্থাপন, বিনা খরচে বাসে করে শিক্ষামূলক ভ্রমণে যাওয়া ,সাবমার্সিবল পাম্প বসানো, পাইপ লাইনের মাধ্যমে শৌচাগারে, রান্নাঘরে ট্যাঙ্কের জল সরবরাহ, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কম্বল বিতরণ, কম্পিউটার প্রদান ইত্যাদি বিভিন্ন কার্যক্রম করা হয়েছে। 

আশা করি আমি ও সহকর্মীদের আন্তরিক চেষ্টায় এলাকাকে সম্পূর্ণ ভাবে বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রমিক ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করবো ।