

বাজকুল জনকল্যাণ শিক্ষানিকেতন (উচ্চমাধ্যমিক) -এর ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগত!
১৯৭১ সালের ৬ই জানুয়ারি, এই জনপদের প্রিয় নেত্রী মাননীয়া স্বর্গীয়া আভা মাইতির উদ্যোগে স্বর্গীয় হরিপদ জানা, স্বর্গীয় খগেন্দ্রনাথ সামন্ত প্রমুখ সম্মানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গের প্রচেষ্টায় ভূমিদাতা, স্বর্গীয় খগেন্দ্রনাথ সামন্ত, স্বর্গীয় ভাগবতচন্দ্র সেন ও শ্রী শ্রীপতি চরণ সামন্ত মহোদয়গণের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত হল বাজকুল জনকল্যাণ শিক্ষানিকেতন। প্রাথমিকভাবে স্বর্গীয় ভাগবতচন্দ্র সেন মহাশয়ের বাড়িতেই শুরু হয়েছিল পঠন-পাঠন। সেই বিদ্যালয় আজ পঞ্চাশ বছর অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তীতে উপনীত। বর্ষে বর্ষে দলে দলে কত ছাত্রছাত্রী এই বিদ্যালয় থেকে বিদ্যাচর্চা অন্তে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অধিষ্ঠিত। কতবিধ আচার্যা-আচার্য তাঁদের কর্মপ্রয়াসের শেষে অবসর গ্রহণ করেছেন, পেয়েছেন রাজ্য সরকার প্রদত্ত শিক্ষকতার সেরা সম্মান ‘শিক্ষারত্ন’। কত প্রিয়জনকে হারিয়েছি কালচক্রে! সবাইকে নিয়ত স্মরণ করি কৃতজ্ঞ চিত্তে।
প্রতিষ্ঠালগ্নেই বিদ্যালয় মাধ্যমিক স্তরের অনুমোদন পায়। ২০১০ সালে অষ্টম মানোত্তর বৃত্তিমূলক শিক্ষার তিনটি ট্রেড – ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও মেডিক্যাল চালু হয়েছে। ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে এই বিদ্যালয়। কলা ও বিজ্ঞান বিভাগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ-এর অনুমোদন সাপেক্ষে পড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তায় যথোপযুক্ত বীক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে মাল্টি-জিম, মিনি ইনডোর কমপ্লেক্স এবং ই-ক্লাসরুম-এর ব্যবস্থা। প্রতিটি শ্রেণির জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বিগত প্রায় ২৫ বছরের সন্তোষজনক ফলাফল ও নানা সাংস্কৃতিক কার্যাবলী এই প্রতিষ্ঠানের প্রাণস্পন্দন। এই স্পন্দন আপামর এলাকাবাসীর ঐকান্তিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় আরও সুচারু হবে – এই প্রত্যাশা করি। বিদ্যালয় হল ‘সোসাইটি ইন মিনিয়েচার’। সমাজের অঙ্গরূপে তথা সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণরূপে এই বিদ্যালয় তার দায়বদ্ধতা পালন করে চলবে। বিদ্যালয় সংলগ্ন সমগ্র এলাকার মানুষজনের কাছে আবেদন জানাই, আপনাদের গড়া আপনাদেরই এই বিদ্যালয়ে আপনার পরিবারের সন্তানটি হয়ে উঠুক এই বিদ্যালয়ের অবশ্য-শিক্ষার্থী। প্রাথমিক শিক্ষার শেষে পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষালাভের জন্য তার গন্তব্য হোক আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
“সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে”। শুধুমাত্র জ্ঞান আহরণ নয়, প্রকৃত ও মানসিক বিস্তৃতির শিক্ষার ভিতর দিয়ে প্রতিটি ছাত্রছাত্রী হয়ে উঠুক সমাজের এক সুন্দর আদর্শ নাগরিক। এবং তারই অনুশীলন হোক এই প্রতিষ্ঠানের মূল চর্যা।
পরিশেষে স্বীকার করি প্রভূত সীমাবদ্ধতা। তথাপি নানা প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে ‘আমরা করব জয় নিশ্চয়’। সবার প্রতি সম্মান, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
~ কৌশিক গিরি।