
আমাদের ক্যাম্পাস
এই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাস-লাইফ খুবই আনন্দদায়ক। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক হার্দিক এবং স্নেহ-শ্রদ্ধা সঞ্জাত। শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা থাকে শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা থাকেন কর্তব্যপরায়ণ।
শ্রেণিকক্ষ শিক্ষার সময় ব্যতীত ভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে স্বাধীন লাইব্রেরি, বালক কমনরুম এবং বালিকা কমনরুম। লাইব্রেরিতে তারা নিজেদের মতো করে বই বাছাই করে বসে পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে বাড়ি নিয়ে যেতে পারে নির্দিষ্ট কয়েকদিনের জন্য। কমনরুম দুটিতে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে ক্যারম, দাবা এবং চাইনিজ-চেকার।
বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি মিনি ইন্ডোর কমপ্লেক্স। এখানে ছাত্রছাত্রীরা নির্ধারিত পৃথক পৃথক সময়ে নিজেদের মতো করে সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করে। এই কমপ্লেক্সে একটি টেবিল-টেনিস বোর্ডের অভাব অনুভূত হয়।
বিদ্যালয়ের মাল্টিজিমে বিষয় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে শারীরিক কসরত অনুশীলনের সুবিধা লাভ করে।
বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে মাঝারি মাপের একটি খেলার মাঠ। বিরতিকালীন সময়ে এখানে পড়ুয়ারা খেলাধুলা করে, তবে স্থানের সংকুলান না হওয়ার কারণে তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে সময় ভাগ করে নেয়। ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার মতো বড়ো মাঠ বিদ্যালয়ে নেই, তাই এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা কিছুটা অপুরিত থেকে যায়।
সারা শিক্ষাবর্ষব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে। নেতাজী জয়ন্তী, প্রজাতন্ত্র দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে বিদ্যালয় মাঠে ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রভাতফেরী, সঙ্গীত-স্লোগান-আবৃত্তি, পথনাটিকা ইত্যাদি পরিবেশিত হয়। বিদ্যালয়ের কোনও অডিটোরিয়াম না থাকলেও মোটামুটি বড়ো আকৃতির শ্রেণিকক্ষে অভ্যন্তর-পরিবেশে ভাষা দিবস, রবীন্দ্র জন্ম-জয়ন্তী, বিদ্যাসাগরের জন্মদিবস, বিবেকানন্দের জন্মদিবস, অরণ্য সপ্তাহ, নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ, কন্যাশ্রী দিবস প্রভৃতি পালনের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেন ও উভয়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে সেগুলি বাস্তবায়িত হয়।
সরস্বতী পূজা ও শিক্ষক দিবস উদ্যাপনে শিক্ষার্থীরা সমগ্র পরিকল্পনা স্বাধীনভাবে করে। এতে অন্তর্জাত শৃঙ্খলাজনিত সুষ্ঠু নান্দনিক সৃজনশীলতা ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা যায়।
ক্যাম্পাস লাইফের অন্যতম আনন্দের বিষয় হলো ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। জানুয়ারি মাসে এই প্রতিযোগিতার কয়েকটি দিন শিক্ষার্থীরা নানাপ্রকার ক্রীড়ায় সুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। হর্ষে বিষাদে ক’টা দিন মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ভিতর দিয়ে এক অনির্বচনীয় আনন্দের স্রোত বইতে থাকে। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী বিচিত্রানুষ্ঠানেও অনুরূপ আনন্দধারা লক্ষিত হয়। এছাড়া প্রাচীর পত্রিকা এবং গার্ডেনিং নিয়েও ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
বাৎসরিক শিক্ষামূলক ভ্রমণে অফুরান আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। সেসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ব্যবধান ঘুচে যায়। সবাই এক অনাস্বাদিত অভিজ্ঞতা আহরণ করতে থাকে। সেক’টা দিনে পারস্পরিক সম্পর্কের এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়।
এই সকল কর্মচঞ্চলতার মাঝে কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোমালিন্য, সহপাঠক্রমিক পরিবেশের কিছু সমস্যা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কে সামান্য ভুল বঝাবুঝির সৃষ্টি হয় বৈ কি! কিন্তু তা সাময়িক। সহনশীল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সরলমতি শিক্ষার্থীর মধ্যে খুব সহজেই সে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে প্রভাত-অরুণ হেসে ওঠে।
বিদ্যালয় জীবনের অন্তে তাই শিক্ষার্থীরা এক ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গভীর টান ও ভালোবাসা অনুভব করে সুমধুর স্মৃতির সঞ্চয় নিয়ে বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেয় আরও উচ্চতর বিদ্যালাভ ও বৃহত্তর সমাজে প্রবেশ করার জন্য।